“মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আড়াই ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে। আমরা ১০টি বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছি। তার মধ্যে ২/৩টে ছাড়া বাকি প্রশ্নের সদত্তর দিতে পারেনি জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। আমরা যে প্রসঙ্গই তুলেছি উনি অন্য প্রসঙ্গে চলে গিয়েছে। উপরন্তু বৈঠকের শুরু থেকেই মেজাজ হারাতে শুরু করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। আঙুল উঁচিয়ে কথা বলতে থাকেন। বলেছি, আঙুল নামিয়ে কথা বলুন। আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি, আপনার মতো মনোনীত নয়। ইভিএমে নয়, ভোট চুরি হচ্ছে ভোটার তালিকায় এবং তা করা হচ্ছে কমিশনের অফিস থেকেই! সেটা ধরতে পেরেছে তৃণমূল।” দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর থেকে বেরিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এভাবেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এরপরই হুঙ্কার দিয়ে তিনি বলেন, “সাহস থাকলে আড়াই ঘণ্টার ফুটেজ প্রকাশ করুক কমিশন”।
SIR আবহে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি (Logical Discrepency), শুনানি, মতুয়াদের ভোটাধিকার সহ একাধিক ইস্যুতে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। অভিষেকের দাবি, বৈঠকের শুরুতেই নাকি আঙুল উঁচিয়ে কথা বলেন জ্ঞানেশ কুমার। তাতে বাধা দেন অভিষেক। সাফ জানান, “আঙুল নামিয়ে কথা বলুন। মনে রাখবেন, আপনি মনোনীত। আমরা নির্বাচিত।” এদিন নির্বাচন কমিশনের দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আরও একবার বিজেপির সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের যোগসাজশের অভিযোগ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, “কো অপারেটিভ মন্ত্রী কে? অমিত শাহ। তার সচিব কে ছিল? জ্ঞানেশ কুমার। আপনারা মনে করেন এটা কাকতালীয়? ওকে এই প্রতিষ্ঠান, সংবিধান, দেশ ধ্বংস করার মিশন দিয়ে এখানে পাঠানো হয়েছে। আমরা মানুষের ক্ষমতার সামনে মাথা নিচু করি। ক্ষমতায় থাকা মানুষের সামনে নয়।” আর ঠিক সে কারণে জ্ঞানেশ কুমার ছাড়া বাকি দুই কমিশনার বৈঠকে চুপ ছিলেন বলেই দাবি করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভোট চুরি হচ্ছে ইভিএমে নয়, ভোটার তালিকায়। ভোটার তালিকায় সফটওয়্যারের মাধ্যমে যে চুরি করা হচ্ছে। চুরি না হলে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করুক কমিশন। তালিকা প্রকাশ করতে না পারলে ক্ষমা চাক। আমরা প্রশ্ন করেছি, এস আই আর-এর সময় BLAদের সাহায্য নিতে পারলে শুনানি কেন্দ্রে কেন BLA রা থাকতে পারবে না। উনি বলছেন, নিয়ম নেই। তাহলে সারকুলার ইস্যু করুক। বলছে, হবে না। আমি প্রশ্ন করেছি, বিহারে পরিযায়ী শ্রমিকদের সশরীরে শুনানিতে হাজিরা দিতে হয়নি। বাংলার ক্ষেত্রে পৃথক নিয়ম কেন? বাংলায় কেন ভারচ্যুয়াল শুনানি হবে না কেন? বয়স্ক, অসুস্থ, শারীরিক ভাবে অক্ষম ভোটারদের শুনানিকেন্দ্রে ডেকে কেন হেনস্তা করা হচ্ছে? উনি কোনও সদত্তর দিতে পারেননি।” এরপরই জ্ঞানেশ কুমারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে অভিষেক বলেন, “ক্ষমতা থাকলে আড়াই ঘণ্টার ভিডিয়ো ফুটেজ প্রকাশ করুক জ্ঞানেশ কুমার।”
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কথায়, কংগ্রেস এই ভোট চুরি ধরতে পারেনি বলেই তাদের হারতে হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল কমিশনের এই ভোটার তালিকায় চুরি ধরে ফেলেছে। অভিষেক বলেন, “মহারাষ্ট্রে, হরিয়ানা, বিহারে, দিল্লিতে ভুলগুলি ধরতে পারেনি কংগ্রেস, আরজেডি, আম আদমি পার্টি। সব জায়গায় বিজেপি ৮৮ শতাংশের স্ট্রাইক রেটে জিতেছে, এটা কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। এটা হয়েছে কারণ ভোটার তালিকায় চুরি হয়েছে এবং তা করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের দ্বারা।”





