এ যেন প্রায় অক্ষয়কুমার- মনোজ বাজপেয়ী অভিনীত ‘স্পেশ্যাল ২৬’ ছবির বাস্তবায়ন। আধঘণ্টার মধ্যে অভিনব কায়দায় অপারেশন! আর তাতেই লুট হয়ে গেল ৭ কোটি টাকা! বেঙ্গালুরুর একটি উড়ালপুলের ঘটনা। দ্রুত গতিতে ছুটে আসছিল ক্যাশ ভ্যান। আচমকাই উড়ালপুলের মাঝে তার পথ আটকায় দু’টি গাড়ি। সেখান থেকে নেমে আসেন পাঁচ-ছ’জন। সোজা ক্যাশ ভ্যানের কাছে গিয়ে তাঁরা নিজেদের ‘আরবিআই কর্তা’ বলে পরিচয় দেন! তার পরেই ওই ভ্যানে থাকা সাত কোটি টাকা ডাকাতি করে পালায় দুষ্কৃতীরা। গোটা ঘটনাটি ঘটে যায় মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ক্যাশভ্যানে তিনটি ব্যাঙ্কের নগদ টাকা ছিল। ওই টাকা এটিএমে রাখার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ভ্যানে চালক ছাড়াও ছিলেন তিন কর্মী। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ওই ক্যাশভ্যানটিকে দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর এক উড়ালপুলের উপর আটকানো হয়। দুষ্কৃতীরা নিজেদের ‘আরবিআই কর্তা’ বলে পরিচয় দিয়ে কর্মীদের জানান, আরবিআইয়ের নির্দেশিকা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে তাঁদের সংস্থার বিরুদ্ধে। সেই কারণেই জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে, তাই সব কর্মীদের নিয়ে যেতে হবে থানায়। সেই দুষ্কৃতীদের কথা বিশ্বাস করে নেন ওই ক্যাশভ্যানে থাকা তিন কর্মী। তাঁদের নিয়ে একটি গাড়িতে ওঠে দুই দুষ্কৃতী। বাকিদের মধ্যে দু’জন উঠে পড়ে ক্যাশ ভ্যানে। বাকিরা ছিল মারুতিতে। তার পরেই তিনটি গাড়ি রওনা দেয় থানার উদ্দেশে। কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পরে দুই গাড়ির রাস্তা ভাগ হয়ে যায়। মারুতির পিছন পিছন চলে যায় ক্যাশ ভ্যানটি। আর অন্য গাড়িতে ছিলেন ওই ভ্যানের তিন কর্মী। কিছুদূর যাওয়ার পর গাড়ি থেকে তিন কর্মীকে নেমে যেতে বলা হয়। তাদেরকে জানানো হয়, তাঁরা যেন থানায় পৌঁছে যান। অন্য দিকে, ক্যাশ ভ্যানটির চালককে বলা হয়, ‘‘থানায় নিয়ে যাওয়ার আগে টাকা ভর্তি বাক্সগুলি আরবিআই অফিসে নিয়ে যেতে হবে।’’ রাস্তার মধ্যে নামিয়ে দেওয়া হয় ক্যাশভ্যানের চালককে। তত ক্ষণে অন্য গাড়িটিও চলে আসে মারুতি ভ্যানের কাছে। তার পরে বন্দুক দেখিয়ে চালককে নির্দেশ দেওয়া হয়, ভ্যানে থাকা সব ক্যাশ বাক্সগুলি মারুতি এবং অন্য গাড়িতে তুলে দেওয়ার জন্য। তার পরে চালককে রাস্তার মাঝে ফেলে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
এই লুটপাটের ঘটনায় বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার সীমান্তকুমার সিংহ বলেন, ‘‘আমরা এই ঘটনার প্রত্যেকটা দিক খতিয়ে দেখছি। দুষ্কৃতীদের খোঁজে ইতিমধ্যেই পুলিশের আটটি দল বিভিন্ন দিকে তল্লাশি চালাচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ।





