মহারাষ্ট্রের পুণেতে কাজ করতে গিয়ে খুন হলেন পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতো (৩১)। অভিযোগ, স্রেফ বাংলায় কথা বলার কারণেই তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে অপরাধীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, একটি যুবককে তাঁর ভাষা, পরিচয় ও শিকড়ের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি ঘৃণ্য অপরাধ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে। সুখেনের পরিবারের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, এই অকল্পনীয় শোকের সময়ে বাংলা তাঁদের পাশে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘আমি অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। সুখেনের পরিবারকে বলছি এই অকল্পনীয় শোকের মুহূর্তে বাংলা আপনাদের পাশে আছে।’
নিহত সুখেন মাহাতোর বাড়ি পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলের বরাবাজার ব্লকের তুমড়াশোলের বাঁধডি এলাকায়। তিনি তাঁর দাদা তুলসিরাম মাহাতোর সঙ্গে পুণের কোরেগাঁও ভিমার কাছে সনৎ বাড়ি এলাকায় একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী কারখানায় কাজ করতেন। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার শিফটে কাজে যাওয়ার পর কর্মস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে অভিযোগ। বুধবার রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি মহারাষ্ট্র পুলিশ। পুণের শিকারপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে।
এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। দলের স্থানীয় নেতৃত্ব নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে, বিশেষ করে মহারাষ্ট্রে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর ভাষা ও পরিচয়ের কারণে হামলার ঘটনা বাড়ছে। গত মাসেও একই রাজ্যে বাংলায় কথা বলার অভিযোগে এক শ্রমিক খুনের অভিযোগ উঠেছিল।





