রাজ্যে আগামী সপ্তাহে প্রথমদফার নির্বাচন (West Bengal Assembly Election)। তার আগে রাজ্যজুড়ে প্রচারের ঝড় এখন তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার কোচবিহারের মাথাভাঙা বিধানসভা কেন্দ্রের ঘোকসাডাঙায় সভা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সভা থেকে কোচবিহারে আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “ভোট এলেই কোচবিহারে অশান্তি কেন হবে?এত রাজনৈতিক হিংসা হচ্ছে কেন? আমাদের সময়ে তো হয়নি। ” পাশাপাশা তিনি অভিযোগ করেন, সিপিএম-এর আমলেও অনেক অত্যাচার করেছে। রাজনৈতিক হিংসা হয়েছে। যখনই নির্বাচন কমিশনের (Election Commission Of India) হাতে আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা চলে যায় তখনই রাজনৈতিক হিংসা বাড়ে।”
মাথাভাঙার সভা থেকে এদিন মমতা বলেন, “আমার হাতে আইনশৃঙ্খলার ভার এখন না-থাকলেও আগামী দিনে থাকবে। আমরা রাজনৈতিক হিংসা করিনা। ” সভা থেকে মাথাভাঙার বিজেপি প্রার্থীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, যে সঙ্গে করে ২০ টা গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ায় তাকে ভোট দেবেন নাকি আপনাদের ঘরের ছেলে তৃণমূলের প্রার্থীকে ভোট দেবেন সেটা ঠিক করুন।”
সভা থেকে শীতলকুচির স্মৃতি উসকে তিনি সিপিএম-বিজেপিকে একযোগে নিশানা করেন। কটাক্ষ করে বলেন “ভারত সরকারের এখানকার মন্ত্রী আজ পর্যন্ত কোনও কাজ করেননি।তারা আজ বড় বড় কথা বলছে। এত যখন কাজের ইচ্ছা, তখন ভোটের আগে করোনি কেন বাপু? এখন ফর্ম পূরণ করাচ্ছে। ফর্মে আপনাদের নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর নিচ্ছে। ভুলেও দেবেন না। যেটুকু ছিল, তাও লুট করে নেবে।”
ছিটমহল প্রসঙ্গেও এদিন মুখ খোলেন তৃণমূল নেত্রী। বলেন, ছিটমহল আমি অধিগ্রহণ করে দিয়েছিলাম। ভারতবর্ষ তো প্রতিভূমাত্র। নাম না করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তোপ দাগেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, নাম বাদ দেওয়ার জন্যই যে এসআইআর, তা নিজের মুখেই স্বীকার করে নিয়েছেন শাহ। এই সূত্রে তিনি বলেন, “যারা তাড়ানোর কথা বলছে, তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাব।”
কেন্দ্রের মহিলা বিল নিয়েও এদিন সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, “মহিলা বিল এবং ডিলিমিটেশন বিল দুটো সম্পূর্ণ আলাদা। কেন একসঙ্গে দুটো বিল আনা হচ্ছে।” মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসকে কেন জোড়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। তাঁর দাবি, এটাও আসলে রাজ্য ভাগ, ভোটারদের নাম কাটা এবং এনআরসি করার চক্রান্ত।





