বাংলায় এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের সংশোধনাগারগুলিতে তৈরি হয়েছে নতুন ধোঁয়াশা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় পর দমদম জেল থেকে শুরু করে বারুইপুর, বসিরহাট থেকে বর্ধমান সহ রাজ্যের ৫৯টি সংশোধনাগারের বন্দিদের মনে একটাই প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে- এসআইআর হওয়ার ফলে আমাদের কী হবে? এই সমস্ত বন্দিদের নিয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তিই জারি করেনি জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ফলে একদিকে যেমন এদের এসআইআর নিয়ে ধোঁয়াশা থেকে যাচ্ছে ঠিক তার অন্যদিকে চিন্তায় রয়েছেন এই বন্দিদের পরিবারের সদস্যরাও। রাজ্যে সব সংশোধনাগার মিলিয়ে বিচারাধীন ও দোষী সাব্যস্ত বন্দির সংখ্যা লক্ষাধিক রয়েছে।
কলকাতা হাই কোর্টের এক আইনজীবী এ প্রসঙ্গে বলেন, “রাজ্যের সমস্ত কারাগারের দুই ধরনের বন্দি রয়েছে। একটি বিচারাধীন, অন্যটি দোষী সাব্যস্ত। ২ বছরের বেশি সাজা হলে দোষীরা ভোটে দাঁড়াতে পারবে না। তবে ভোট দেওয়ার অধিকার আছে। পরিবারের সদস্যরা সংশোধনাগারে গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম সই করিয়ে নিয়ে আসতে পারবেন। এসআইআরে কোনও বাধা নেই। দোষী সাব্যস্ত বন্দিরা প্যারলে বেরিয়ে ভোট দিতে পারবে। যাঁরা বিচারাধীন বন্দি তাঁরা জামিনে মুক্ত হলে ভোট দিতে পারবে”। কারা দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, ফর্ম নিয়ে এলে সংশোধনাগারের নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট বন্দিকে দিয়ে তা পূরণ ও সই করিয়ে পরিজনদের হাতে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। বন্দি অবস্থায় ভোটাধিকার না-থাকলেও ভোটার লিস্টে নাম রাখা বা এসআইআর-এর মতো প্রক্রিয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে এক কর্তা জানান, “কয়েকটি সংশোধনাগার থেকে খবর পেয়েছি, এখনও পর্যন্ত মূলত বিচারাধীন বন্দিদের পরিজনেরাই ফর্ম নিয়ে আসছেন। তবে, সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের পরিজনেরা ফর্ম নিয়ে এলে তাঁরাও একই সুবিধা পাবেন’।





