“অপরিকল্পিত এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। কেন্দ্রের বিজেপির সরকারের অঙ্গুলিহেলনে নির্বাচন কমিশন এই কাজ করছে। আর তাতে বিশেষভাবে টার্গেট করা হচ্ছে মহিলাদের। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই পরিকল্পিত প্রচেষ্টাকে আমরা ধিক্কার জানাই।” বুধবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি ও কমিশনকে (Election Commission) একযোগে এই ভাষাতেই নিশানা করলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও পার্থ ভৌমিক।
তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এদিন অভিযোগ করেন, বাঁকুড়া ছাতনায় বিজেপির চক্রান্তের পর্দা ফাঁস হয়ে গিয়েছে। গাড়িভর্তি এসআইআর ফর্ম ৭ পাওয়া গিয়েছে। ফর্মগুলিতে তালড্যাংরা বিধানসভার ভোটারদের নাম রয়েছে। ওই ফর্মগুলি ব্ল্যাঙ্ক ছিল না, আগে থেকেই পূরণ করা ছিল। অর্থাৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এই বিপুল সংখ্যক ফর্ম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল? ঘটনায় ২ জন বিজেপি নেতা ধরা পড়েছেন। বাকি ৩ জন পালিয়েছে। এর থেকে স্পষ্ট যে গোটা ঘটনার পিছনে রয়েছে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বৈধ ভোটারকে অবৈধ বানানোর সুপরিকল্পিত এই চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন তাঁরা। পাশাপাশি প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কমিশন ও বিজেপি ভিনরাজ্যের ভোটারদের নাম এরাজ্যে ঢোকানোরও চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে তৃণমূলের তরফে।
সাংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, টি এন সেশনের সময় নির্বাচন কমিশনের যে গরিমা ছিল, তা আজ নেই। সেই গরিমাকে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। স্বয়ংশাসিত সংস্থাকে বিজেপির নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থায় পরিণত করা হয়েছে। বাংলায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার হার অন্য রাজ্যের তুলনায় কম দেখে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র মতো নতুন নিয়ম আনা হয়েছে। শুধু বাংলার ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কেন? কাগজ জমা দিলেও তার কোনও তথ্য দেওয়া হচ্ছে না।
পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে এই নিয়ম না থাকলেও বাংলার ক্ষেত্রেই কেন এমন সিদ্ধান্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পার্থ ভৌমিক। তাঁর অভিযোগ, কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরেও ভোটারদের কোনও তথ্য জানানো হচ্ছে না। একজন বিএলও সর্বোচ্চ কতগুলি ফর্ম ৭ জমা দিতে পারে, সেই সীমা নিয়েও অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন তিনি।একজন বিএলও নাকি ১০টি ফর্ম ৭ জমা দিতে পারে। তাহলে এই হাজার হাজার ফর্ম এল কোথা থেকে? পার্থ আরও বলেন, “হিটলারি কায়দায় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা হচ্ছে। বিজেপির নেতারা যখন দেড় কোটি নাম বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন, তখন কমিশন যেন সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। কিন্তু এটা বাংলা। এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। এখানে এই অপচেষ্টা আটকাবই।”
এদিন শিল্প প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্যেরও জবাব দেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, সিঙ্গুরে কৃষিজমি অধিগ্রহণ যে বেআইনি ছিল, তা সুপ্রিম কোর্টের রায়েই স্পষ্ট। তাপসী মালিকের মৃত্যুর সময় বিজেপির নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভোটের আগে শিল্পের কথা তুলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন চন্দ্রিমা।কেন্দ্রীয় বঞ্চনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুম্ভমেলার জন্য কেন্দ্র কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও, গঙ্গাসাগরের মতো আন্তর্জাতিক মানের মেলার জন্য এক পয়সাও দেয় না। অথচ এখান থেকে টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।




