Header AD

শিশুমৃত্যুর জেরে ভারতীয় কাশির সিরাপ নিয়ে সতর্কতা জারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO)

‘স্রেসান ফার্মাসিউটিক্যাল’-এর তৈরি কাশির সিরাপ ‘কোল্ডরিফ’নিয়ে সম্প্রতি বিপুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে গোটা দেশ জুড়ে। বিপদজনক এই কফ সিরাপের জেরে ভারতে একের পর এক শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ওষুধ প্রস্তুতের জন্য ওই সংস্থার লাইসেন্স সম্পূর্ণ বাতিল করে দিয়েছে তামিলনাড়ুর এমকে স্ট্যালিনের সরকার। সংস্থা বন্ধ করার নির্দেশও জারি করা হয়েছে। এবার এই বিপদজনক কাশির সিরাপ কাণ্ডে নড়েচড়ে বসল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। ভারতে তৈরি তিনটি সংস্থার কফ সিরাপের বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে সতর্কবার্তা। এই তালিকায় রয়েছে বিতর্কিত কফ সিরাফ ‘কোল্ডরিফ’।

প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুর ওই সংস্থার তৈরি কাশির সিরাপ ‘কোল্ডরিফ’ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, ওই কাশির সিরাপ খাওয়ার ফলে মধ্যপ্রদেশে ২০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়ে রাজস্থানের বেশ কয়েকটি শিশুও। ওই কাশির সিরাপে ৪৮.৬ শতাংশ ডাইথিলিন গ্লাইকল পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকেরা। তা ছাড়া ওই সংস্থার ওষুধ তৈরির জন্য এবং তা পরীক্ষা করানোর জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ উঠে এসেছে। বিতর্কের মাঝে গত সপ্তাহেই সংস্থার মালিক রঙ্গনাথনকে চেন্নাই থেকে গ্রেফতার করে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে সতর্কবার্তা জারি করে বলা হয়েছে, কোল্ডরিফ, রেসপিফ্রেশ টিআর ও রিলাইফ এই ৩টি কফ সিরাপ প্রস্তুতকারী সংস্থা হল শ্রীসান ফার্মাসিউটিক্যালস, রেডনেক্স ফার্মাসিউটিক্যালস এবং শেপ ফার্মা। নিম্নমানের এই কাশির সিরাপগুলি শিশুদের জন্য মারাত্মক অসুস্থতার কারণ হতে পারে। দেশের কোথাও যদি এই সিরাপগুলি দেখা যায়, তাহলে তা অবিলম্বে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলিকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে WHO। সংবাদসংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই ওষুধগুলি অত্যন্ত বিপজ্জনক, এবং এগুলি শিশুদের প্রাণহানীর কারণ হতে পারে।

এদিকে WHO- এর সতর্কবার্তার পরই এদেশের স্বাস্থ্য সংস্থা ‘সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন’ (CDSCO) WHO-কে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে এই সিরাপ খাওয়ার কারণে ১৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যাদের বয়স ৫ বছরের কম। CDSCO হু-কে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, বিপজ্জনক এই সিরাপগুলি ভারত থেকে কোথাও রপ্তানি করা হয়নি এবং অবৈধভাবে রপ্তানিরও কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে, সিরাপ কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে একটি জনস্বার্থ মামলা। সেখানে দাবি করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে গোটা ঘটনার তদন্ত করা হোক।