Header AD

পানিহাটি উৎসবে অঙ্কিত তিওয়ারির অনুষ্ঠানে গণধোলাইয়ে মৃত্যু যুবকের! খুনের অভিযোগ দায়ের পরিবারের

ফের কনসার্ট বিতর্ক শহরের বুকে! সোদপুরে পানিহাটি উৎসবে অঙ্কিত তিওয়ারির অনুষ্ঠানে ঘটে গেল ভয়ংকর ঘটনা। নিমেষে রণক্ষেত্র পানিহাটি উৎসব। গানের অনুষ্ঠান দেখতে এসে গত রবিবার চরম ধাক্কাধাক্কির মাঝে গণধোলাইয়ের জেরে আহত হয়েছিলেন এক যুবক। তিন দিনেক হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত বুধবার রাতে হার মানলেন তিনি। মৃতের নাম তন্ময় সরকার, বয়স ২৮ বছর। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের ঘোলা অপূর্ব নগরে। খুনের অভিযোগ দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খড়দহ থানার পুলিশ। যার জেরে বর্তমানে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি এলাকায়। জানা গিয়েছে, পানিহাটি উৎসবের মাঠে নাচানাচি করাকে কেন্দ্র করে বচসা বেধেছিল দু’পক্ষের। তার জেরে এই ঘটনা। এই অবস্থায় মেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছরের মত এবারেও গত ২০ ডিসেম্বর থেকে সোদপুর অমরাবতী মাঠে শুরু হয়েছিল পানিহাটি উৎসব। সেই উৎসবে একাধিক তারকা এবং গায়ক উপস্থিত ছিল। গত রবিবার অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর সেই উৎসবে উপস্থিত ছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী অঙ্কিত তিওয়ারি। কিন্তু তাঁর কনসার্টেই ঘটে গেল বিপদ। উৎসবের মাঠে গানের তালে নাচানাচি করাকে কেন্দ্র করে সোদপুর ঘোলার অপূর্বনগরের বাসিন্দা তন্ময় সরকারের সঙ্গে আচমকা বচসা বেঁধেছিল এক পক্ষের। যদিও উপস্থিত অন্যান্যদের হস্তক্ষেপে তখনকার মতো বিবাদ থামে৷ কিন্তু পরে মেলার মাঠ থেকে বেরনোর পর তন্ময়কে একা পেয়ে পাশের গলিতে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে কয়েকজন। এই কাজ তাদেরই যাদের সঙ্গে মৃত যুবকের বচসা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে পরবর্তীতে। রাতেই তন্ময়কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, পরে কামারহাটির সাগরদত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বুধবার রাতে সেখানেই তন্ময়ের মৃত্যু হয়। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুনের অভিযোগে দায়ের হয়েছে এফআইআর।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার খড়দহ থানায় খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে তন্ময়ের পরিবার। অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। মৃত যুবকের মা গঙ্গা সরকার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ছেলেকে মঞ্চের পিছন দিকের গলিতে ঢুকিয়ে রাস্তায় ফেলে ২০-২২ জন পেটে অনবরত লাথি মারে৷ ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না।’