মাটির তৈরি দুর্গার সামনে জ্যান্ত দুর্গা। ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক খুললেই রিল-ছবিতে ভরে ওঠে ফিড। আর কুমোরটুলিতে? মডেল আর ছবি শিকারিদের দাপটে নাজেহাল প্রতিমা শিল্পীরা। কাজের সময় নানান আবদার। অনেকসময়ই তাই বিরক্তিবশত শিল্পীরা বলতে বাধ্য হচ্ছেন, ‘ সরে যান’ কিংবা ‘অন্যত্র গিয়ে কাজ করুন’। কিন্তু তাতে কার কী! কর্ণপাত করেন না কেউই।
দুর্গাপুজোর আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। কুমোরটুলিতে (Kumartuli) এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা।ন প্রতিমা গড়ার ব্যস্ততার মধ্যে লালপাড় সাদা শাড়ি পরা মডেল বা গলায় ক্যামেরা ঝোলানো ফোটোগ্রাফাররা যে পরিমাণ বিরক্ত করেন, তার প্রতিবাদ স্বরূপ অনেক শিল্পীই এবার নিজের স্টুডিওতে ছবি তোলা নিষিদ্ধ করেছেন।
শিল্পীদের অভিযোগ, এই ভিড় এখন আর কেবল প্রতিমা দেখতে আসা মানুষের নয়, বরং নিজেদের ছবি তোলার নেশায় মেতে উঠেছেন সকলে। কারও হাতে স্ক্রিপ্ট, কারও হাতে আলো-ঝলমলে লাইট। কেবল ছবি নয়, এখন নাচ-গানও যোগ হয়েছে সঙ্গে। সাজগোজ করে তরুণ-তরুণীরা প্রতিমার সামনে নাচছেন, রিলস বানাচ্ছেন। অথচ শিল্পীদের অনুমতির তোয়াক্কা করছেন না তাঁরা। হঠাৎ ধাক্কা লাগলেই ক্ষতি হতে পারে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতিমার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংস্কৃতি সমিতি ও মৃৎশিল্পী সমিতি, শ্যুটিংয়ের জন্য টিকিট চালু করেছিল। তাতেও কাজ হয়নি। বরং হিতে বিপরীত হয়েছে। শিল্পীরা বলছেন, ‘কেউ কথা শুনতে চান না। আমরা অনুরোধ করলেও সরে দাঁড়ান না। এত ভিড়ের মধ্যে একবার কিছু ভেঙে গেলে ক্ষতি আমাদেরই।’
তবে এরই মাঝে ব্যাতিক্রম আছে। সকলেই যে ক্যামেরার বিরোধী, তা নয়। শিল্পীদের কাছে জানা গেল, অনেকেই অনুমতি নিয়ে ছবি তোলেন, তাঁদের সমর্থন করা হয়। কিন্তু কেউ কেউ কাজের মধ্যে ব্যাঘাত ঘটান, সেটা সমস্যার। তাই শিল্পীদের অনুরোধ ,’ জায়গাটার মর্যাদা যেন বজায় থাকে।’





