পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় মুদ্রা। বুধবার বাজার খোলার সময় ডলারের দাম ৭০ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় ৯২.১৭ টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ে টাকার সর্বনিম্ন স্তর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে সোমবার এক ডলারের মূল্য ছিল ৯১.৪৯ টাকা। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে এই পতন বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ইরানকে ঘিরে ইজরায়েল ও আমেরিকার সংঘাত ক্রমশ তীব্র হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আপাতত কোনও তৈলবাহী জাহাজ চলাচল করছে না বলেই খবর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং দাম বাড়ার সম্ভাবনা জোরালো।
ভারত মূলত ইরাক, সৌদি আরব এবং কুয়েত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে। সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির কারণে রাশিয়া থেকে তেল আমদানিও কিছুটা কমেছে। এর ফলে তেলের দাম বাড়লে ভারতের ডলার খরচ বেড়ে যায়, আর ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল হয় টাকা।
এই আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারেও। মুম্বইয়ের বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ-এর সূচক সেনসেক্স এক ধাক্কায় প্রায় ১৫০০ পয়েন্ট পড়ে ৮০ হাজারের নীচে নেমে যায়। পাশাপাশি ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ-এর নিফটি সূচকেও ৪০০ পয়েন্টের বেশি পতন দেখা যায়।
পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে বিনিয়োগকারী ও অর্থনৈতিক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে টাকার ওপর চাপ এবং বাজারের অস্থিরতা আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।




