আর্থিক বছরের শেষ লগ্নে বকেয়া বিনোদন কর আদায়ে কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা। শহরের একাধিক পানশালা, ক্লাব, রেস্তরাঁ, ব্যাঙ্কোয়েট হল ও বিনোদনমূলক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘদিনের বকেয়া কর রয়েছে, এই অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে নোটিশ পাঠানো শুরু করেছে পুর প্রশাসন।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিহ্নিত একাধিক পানশালা, ক্লাব ও রেস্তরাঁর কাছে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনোদন কর বকেয়া রয়েছে। একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হলেও অনেক ক্ষেত্রেই কর জমা পড়েনি। বিশেষ করে এক লক্ষ টাকা বা তার বেশি কর বকেয়া রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলিকে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ১০ হাজার টাকার বেশি বকেয়া থাকলেও রেহাই মিলছে না। এই জন্য বকেয়া আদায়ে আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটছে পুর প্রশাসন। পুরসভার বিনোদন কর বিভাগ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। পুরকর্মীরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে গিয়ে করের ‘ডিমান্ড নোটিশ’ ধরিয়ে দিচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের দরজায় পোস্টার টাঙিয়ে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বকেয়া বিনোদন কর আদায়ে আরও কড়া অবস্থান নিল কলকাতা পুরসভা। পুর-আধিকারিকদের বক্তব্য, করখেলাপিদের চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই দু’টি পৃথক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রথম তালিকায় রয়েছেন যাঁদের ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি বকেয়া রয়েছে। দ্বিতীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এক লক্ষ টাকা বা তার বেশি বকেয়া রাখা প্রতিষ্ঠানগুলিকে। পুরসভা সূত্রের দাবি, এক লক্ষ বা তার বেশি বকেয়া রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে মোট বকেয়া অঙ্ক প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে ১০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকার মধ্যে বকেয়া রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানগুলির মোট বকেয়া প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকার মধ্যে। লক্ষাধিক টাকার করখেলাপির তালিকায় বেলেঘাটার এক ব্যবসায়ীর অনুষ্ঠানবাড়ি এবং রেস্তরাঁ-পানশালার নামও রয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বকেয়া পরিশোধের জন্য আরও কয়েকদিন সময় চেয়েছেন।
তবে পুর প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অর্থ জমা না পড়লে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্স সংক্রান্ত ব্যবস্থা, জরিমানা আরোপ বা অন্যান্য আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। আর্থিক বছরের শেষ পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে কোনও রকম ঢিলেমি দেখাতে রাজি নয় পুরসভা—এমনই বার্তা প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষ শেষের আগে বকেয়া আদায়ে জোরদার অভিযান চালিয়ে আরো বড় অংকের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কলকাতা পুরসভা। কলকাতা পুরসভার কর বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘পুরসভার আয় মূলত কর আদায়ের উপর নির্ভর করে। সেই অর্থ দিয়েই কলকাতাবাসীকে পরিষেবা দেওয়া হয়। ইচ্ছাকৃত ভাবে কর দেওয়া না হলে যা পদক্ষেপ করা সম্ভব এক্ষেত্রে পুরসভা তাই করবে।’’




