হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার খুনের ঘটনায় অবশেষে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। ঘটনার মূল দুই অভিযুক্ত হারুন শেখ ও রোহিত হোসেনকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোলাবাড়ি থানার বিশেষ দল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। ইতিমধ্যে এই মামলায় আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে হারুন ও রোহিতকে ধরতে তদন্তকারীদের বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়। শেষ পর্যন্ত ঘটনার আট দিনের মাথায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। জানা গিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবারই ট্রানজিট রিমান্ডে দু’জনকে হাওড়ায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
গত বুধবার সকালে হাওড়ার গোলাবাড়ি এলাকার পিলখানায় জনবহুল রাস্তায় প্রোমোটার শফিক খানকে গুলি করে খুন করা হয়। অভিযোগ, হারুন ও রোহিত পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে শফিকের মাথা ও বুকে চার রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন শফিক এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। গোটা ঘটনার ভয়ঙ্কর দৃশ্য এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
হাওড়ার মতো ব্যস্ত এলাকায় দিনের বেলায় এমন দুঃসাহসিক খুনের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পুলিশের নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়েও সমালোচনা হয়। ঘটনার পরপরই জোড়াসাঁকো এলাকা থেকে হারুন ও রোহিতের কয়েকজন ঘনিষ্ঠকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। পরে মামলার তদন্তভার নেয় সিআইডি এবং মূল অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। তদন্তে জানা যায়, খুনের ঘটনার পর হারুন ও রোহিত দিল্লির একটি হোটেলে লুকিয়ে ছিল। সেই সূত্র ধরেই দিল্লিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রোমোটার শফিক খানের কাছে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল হারুন ও তার দল। সেই টাকা না দেওয়াতেই পরিকল্পনা করে তাঁকে খুন করা হয়।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, খুনের দিন ভোরে মোট পাঁচজন এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল। একটি গাড়ি নিয়ে গলির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল মহম্মদ বিল্লাল ওরফে রিঙ্কু, মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না এবং দিলদার হোসেন। আর গলির ভিতরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শফিককে লক্ষ্য করে গুলি চালায় হারুন ও রোহিত। বাইরে থাকা তিনজন পাহারায় ছিল। গুলি চালানোর পর হারুন ও রোহিত দৌড়ে গলি থেকে বেরিয়ে জিটি রোডে আসে এবং সেখান থেকে বাকি তিনজনের সঙ্গে গাড়িতে উঠে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।





