উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ল। একটি মার্কিন পণ্যবাহী তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী বাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর উপসাগরীয় এলাকায় ওই ট্যাঙ্কারটিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের দাবি, হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
গত শনিবার থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহ তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, ধারাবাহিক ড্রোন হামলার ফলে আগামী কয়েক মাস এই জলপথে নৌ চলাচল প্রায় স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে।
ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ইরান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ হিসেবে পরিচিত। প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রয়েছে তেহরানের। তবে তাদের হাতে ঠিক কত ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা মহলে এখনও স্পষ্ট তথ্য নেই।
ইরানের বহুল ব্যবহৃত শহিদ ১৩৬ (Shahed-136) ড্রোনের পাল্লা প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার কিলোমিটার। ফলে ইরানের মূল ভূখণ্ড বা সমুদ্রে থাকা যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে তা সহজেই পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী বাহিনী দাবি করেছে, তারা এখন পুরোপুরি হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, এই পথ দিয়ে কোনও জাহাজ যাতায়াতের চেষ্টা করলে তা আক্রমণের মুখে পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই একাধিক পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ সেই তালিকায় যোগ হয়েছে একটি মার্কিন ট্যাঙ্কারও।





