রমজানের রোজা পালন করছিল মধ্য কলকাতার বউবাজারের বাসিন্দা ১৬ বছরের সাজদা পারভিন। কিন্তু হঠাৎই ঘটে যায় বিপত্তি। বোরখা আটকাতে ব্যবহার করা একটি পিন অসাবধানতাবশত গলায় ঢুকে গিয়ে শ্বাসনালির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে গিয়ে আটকে যায়। দ্রুত চিকিৎসকদের উদ্যোগে সেই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেল কিশোরী।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে নিয়ে যান কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের (Kolkata Medical College) ইএনটি বিভাগের ওপিডিতে। চিকিৎসকরা জানান, সাজদা ঠিকমতো ঢোক গিলতে পারছিল না এবং জানায় যে সে সম্ভবত কিছু গিলে ফেলেছে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভর্তি করে পরীক্ষা করা হয়। চেস্ট এক্স-রে ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে ধরা পড়ে যে পিনটি ডান দিকের ব্রঙ্কাসে আটকে রয়েছে।
ব্রঙ্কাস হল ফুসফুসের ভেতরের শ্বাসনালির একটি বড় শাখা, যার মাধ্যমে বাতাস ফুসফুসে পৌঁছায়। ডান দিকের ব্রঙ্কাস তুলনামূলকভাবে একটু চওড়া হওয়ায় ভুল করে গিলে ফেলা বস্তু অনেক সময় সেখানেই গিয়ে আটকে যায়। সাজদার ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছিল। পরিস্থিতি বুঝে চিকিৎসকরা দ্রুত রিজিড ব্রঙ্কোস্কপি পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। এই পদ্ধতিতে একটি ধাতব টিউব শ্বাসনালি দিয়ে ফুসফুসের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে আটকে থাকা বস্তুটি বের করে আনা হয়। সফলভাবে সেই পিনটি বের করে আনেন চিকিৎসকেরা।
অস্ত্রোপচার দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইএনটি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডা. সুদীপকুমার দাস, ডা. তাপস রায় ও ডা. নয়না দাস। অ্যানাস্থেশিয়ার দায়িত্ব সামলান ডা. দেবাশিস ঘোষ এবং ডা. আত্রেয়ী বসু। চিকিৎসকদের কথায়, কোনও জটিলতা ছাড়াই পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সাজদাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপে মেয়ের প্রাণ বাঁচায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সাজদার পরিবার। রোজার মাসে এই বিপদ কাটিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠায় স্বস্তি ফিরেছে তাদের ঘরেও।





