‘ভোট নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নিতে দেব না’ লেখা পোস্টার গলায় ঝুলিয়ে শুক্রবার ধর্নামঞ্চে বলতে ওঠেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahuya Moitra) । তিনি বলেন, ‘‘এটা নীতি বা আদর্শের লড়াই নয়। এটা বেঁচে থাকার লড়াই। আজ কলকাতার কোনও মানুষ, যাঁরা বাসে-ট্রামে যাচ্ছেন, আর ভাবছেন, মমতা তো আবার ধর্নায় বসেছেন, তাহলে তাঁর মতো অপরাধী আর নেই। এসআইআর এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সাধারণ শিক্ষিত মানুষও তা বুঝতে পারছেন না। বুদ্ধিজীবী সমাজ, শিক্ষিত ছেলেমেয়েরাও এসআইআরের পরিকল্পিত গেম, চক্রান্তটা ধরতে পারছে না।’’ তথ্যগত অসঙ্গতি থেকে ভোটার তালিকায় নাম বাদ নিয়ে কমিশন এবং বিজেপিকে এদিন এই ভাষাতেই তোপ দাগেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, বড় ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হয়েছে।
এর মধ্যে প্যারাটিচারদের সংগঠনের বিক্ষোভ হয়। তাঁদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, “এটা সময় নয়, মানুষ মরছে। বিজেপি মাইন্ডেড সব। এদের এখানে কারা পাঠিয়েছে জানি। বিজেপি এসবের পিছনে। মানুষ মারা গেছে, তাদের জন্য আমরা এখানে এসেছি। বাকিদের দাবিও আছে। তাদের জন্য অন্য জায়গা আছে। মোদি, অমিত শাহ, ভ্যানিশ কুমারের কাছে যান।” এর পর সাংসদ সায়নী ঘোষ বক্তব্য রাখেন। তিনিও তীব্র ভাষায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন।
বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় (Shatabdi Roy)জানান, এসআইআর নিয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নেতা অভিষেক যে লড়াই করছেন, তা সারা ভারতে উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি মমতা এবং অভিষেকের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘‘ওঁদের জন্য এই দলে আছি। উনি যখন এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেলেন, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে মানুষের জন্য সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করেন, তিনি শেখাতে পারেন লড়াই কাকে বলে।’’
উল্লেখ্য ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু সাধারণ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে! তার প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুর ২টোয় ধর্মতলায় ধরনায় বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোতায়েন প্রচুর পুলিশ। রয়েছেন নেতা থেকে কর্মীরাও। কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা খুব স্পষ্ট। রক্ষা করতে হবে সাধারণের ভোটাধিকার।
প্রসঙ্গত, বঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু দিন থেকেই পথে নেমেছিলেন মমতা। এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানি পর্বের শেষের মুখে এসআইআরে ভুক্তভোগীদের নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দরবারে। সেখানে অভিযোগ জানিয়েছেন। কথা বলেছেন সাধারণের হয়ে। কিন্তু তারপরও বাংলার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এর মধ্যে ৬৩ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম স্রেফ ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। আরও ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার বিচারাধীন।




