Header AD
Trending

দুই প্রার্থীর নামই স্বপ্না বর্মন, রাজগঞ্জে ভোটারদের বিভ্রান্তির আশঙ্কা

Swapna namesake

রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে এবার এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই নামে দুই প্রার্থী, স্বপ্না বর্মন (Swapna Burman) —নির্বাচনী লড়াইয়ে নামায় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একজন এশিয়াডে সোনাজয়ী ক্রীড়াবিদ ও তৃণমূল প্রার্থী, অন্যজন গৃহবধূ ও নির্দল প্রার্থী।

এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা স্বপ্না বর্মন এবার তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) প্রার্থী হিসেবে জোড়া ঘাসফুল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খেলাধুলার জগত থেকে সরাসরি রাজনীতিতে পা রাখলেও, তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই প্রচার চালাচ্ছেন। তবে প্রার্থী হতে গিয়ে তাঁকে বেশ কিছু জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। রেলের চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর এনওসি পেতে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ পর্যন্ত যেতে হয়। শেষমেশ মনোনয়ন জমা দেওয়ার একদিন আগে প্রয়োজনীয় শংসাপত্র হাতে পান তিনি।

অন্যদিকে, একই আসনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আর এক স্বপ্না বর্মন, যার প্রতীক ফুলকপি। তিনি একজন গৃহবধূ এবং সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। জানা গিয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক অসন্তোষের জেরেই তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে।

দুই প্রার্থীর একই নাম নিয়ে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকলেও, তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর মতে, প্রতীক ও ব্যক্তিগত পরিচিতির ভিত্তিতে ভোটাররা সহজেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন। একই সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বের মুখেও। অন্যদিকে, বিজেপির বিক্ষুব্ধ অংশই নাকি গৃহবধূ স্বপ্নাকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছে। সূত্রের খবর, রাজগঞ্জে বিজেপির বর্তমান প্রার্থী হিসেবে দীনেশ ওরফে হারাধন সরকারকে অনেকে মেনে নিতে পারেননি। উপরে সেই বিক্ষোভ চাপা পড়লেও, ভিতরে বিক্ষোভের আঁচ নেভেনি। তারই ফলশ্রুতি নির্দল প্রার্থী হিসেবে স্বপ্নাকে দাঁড় করান। তবে, দীনেশ সরকার জানান, দলে কোনও আভ্যন্তরীণ সমস্যা নেই। নির্দল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনও মনে করেন, নাম এক হলেও প্রতীক আলাদা হওয়ায় ভোটারদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তিনি জানান, এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, একই নামে দুই প্রার্থীর লড়াই রাজগঞ্জে এবারের নির্বাচনে এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যা ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।