পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘা-শংকরপুর মৎস্যবন্দর থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ‘মা কালী’ নামের ওই ট্রলারে ছিলেন ১৫ জন মৎস্যজীবী। নির্ধারিত সময়ে বন্দরে ফিরে না আসায় বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি।
ট্রলারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি দ্রুত ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং উপকূল থানার পুলিশকে জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্রলারটির সন্ধানে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রে থাকা অন্যান্য ট্রলারগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে, যাতে নিখোঁজ ট্রলারটির কোনও খোঁজ মিললে দ্রুত প্রশাসনকে জানানো যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘মা কালী’ ট্রলারটির মালিক রামনগর থানার দেউলিবাংলা এলাকার বাসিন্দা অভিজিৎ বেরা। চলতি মাসের শুরুতে ট্রলারটি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দেয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রলারটি বন্দরে না ফেরায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। ট্রলারে থাকা কোনও মৎস্যজীবীর সঙ্গেও যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না।
ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার রাতেই শংকরপুর মৎস্যবন্দরে পৌঁছান মন্ত্রী রাজেশ মাহাতো এবং জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা। তাঁরা নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
শংকরপুর ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি প্রশাসন, স্থানীয় বিধায়ক এবং ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের আবেদনও জানানো হয়েছে, যাতে দ্রুত উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা যায়।
গোটা বিষয়টি নিয়ে উপকূলরক্ষী বাহিনী ও পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছে। সবদিক থেকেই তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং প্রশাসন আশাবাদী, খুব দ্রুত নিখোঁজ ট্রলারটির সন্ধান মিলবে।




