তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, আদালতের নিযুক্ত বিশেষ অফিসারের তত্ত্বাবধানে আপাতত ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে শুধুমাত্র দলের দৈনন্দিন প্রশাসনিক খরচ এবং আইনি ব্যয়ের জন্য অর্থ তুলতে পারবে মমতা বন্দ্যোপাধায়্যের (Mamata Banerjee)তৃণমূল। এর বাইরে অন্য কোনও খাতে টাকা ব্যবহার করা যাবে না।
আদালত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদার-কে বিশেষ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি এই সংক্রান্ত মামলায় আদালতে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূলের বিদ্রোহী ঋতব্রত শিবির।
নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে চেকের মাধ্যমে অর্থ তুলতে হলে দলের দুই অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর পাশাপাশি বিশেষ অফিসারের স্বাক্ষরও বাধ্যতামূলক হবে। তাঁর অনুমোদনের পরেই ব্যাঙ্ক অর্থ ছাড়বে।
হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে, এই পর্যায়ে কে ‘আসল তৃণমূল’— সেই বিতর্কে আদালত কোনও সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে ভারতের নির্বাচন কমিশন যদি এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়, তা আদালতকে অবহিত করতে হবে। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই বর্তমান অন্তর্বর্তী নির্দেশ বহাল থাকবে কি না, তা বিবেচনা করা হবে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ককে সমস্ত নথি ও লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পরবর্তী শুনানিতে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে পুলিশকে।
২০২৬ -এ নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর তৃণমূলের ভিতরে ভাঙন দেখা দেয়। নির্বাচিত বহু বিধায়ক দল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দেন । অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র নেতৃত্বাধীন শিবিরও নিজেদের তৃণমূল বলেই দাবি জানায়। দলের প্রতীক ও সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে বিরোধ বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন।
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ১৮ জুন শিবির বদল করা এক বিধায়ক অভিযোগ করেন, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেআইনি অর্থ থাকতে পারে।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং ব্যাঙ্ককে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার নির্দেশ দেয়। এরপরই মমতা-ঘনিষ্ঠ শিবির হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়।
শুনানিতে অভিযোগকারী বিধায়কদের আইনজীবী বিশ্বনাথ দাস দাবি করেন, “আমরাই আসল তৃণমূল। আমরা এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করি। তাই অন্য কেউ কিছু চাইলেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।”
কিন্তু আদালত এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযোগকারীরা নির্বাচনের আগে দলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই আর্থিক সুবিধাও পেয়েছিলেন। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর হঠাৎ অভিযোগ দায়েরের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে নির্দিষ্ট কোনও অপরাধের উল্লেখ নেই; শুধুমাত্র সম্ভাব্য অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ ১৮ জুন সন্ধ্যায় অভিযোগ জমা পড়ার পরের দিনই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করা হয়।
আদালতের মতে, এত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তদন্তকারী সংস্থা এখনও উপস্থাপন করতে পারেনি।
পুলিশের রিপোর্টে তিন জনের সাক্ষ্য এবং সাতটি অভিযোগের উল্লেখ থাকলেও, আদালত তাতে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট নয়। তাই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পরবর্তী শুনানির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।




