ছাব্বিশের নির্বাচন (ElectioninBengal) ঘিরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। তারই মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত—ভোটের তিন দিন আগে থেকে বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা। এই নির্দেশকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার সেই বিতর্ক পৌঁছে গেল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। কমিশনের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তিনি মন্তব্য করেন, “অযৌক্তিকভাবে সব কিছু থামিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।” কেন ভোটের তিন দিন আগে থেকেই বাইক চলাচলে এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল, সেই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে কমিশনকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকালই সেই জবাব আদালতে পেশ করতে হবে কমিশনকে।
বাইক নিষেধাজ্ঞা ঘিরে মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাও এদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দু’দিন আগে থেকে সব কিছু স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এটা কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা। আপনারা নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। যেহেতু ভোটের সময় আপনাদের এক্তিয়ার রয়েছে, তার অপব্যবহার করছেন।” পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি আরও প্রশ্ন তোলেন, “ইলেকশন কমিশনের ক্ষমতা আছে বলে যা খুশি করা যায় না। নাগরিককে হেনস্তা করা হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার জন্য হলেও মানা যায়, এখানে ৭২ ঘণ্টার বেশি! আপনাদের পুলিশ প্রশাসন আছে, সিসিটিভি আছে—তাহলে এইগুলোর দরকার কী? সব বন্ধ করে দিন।”
এদিন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আপনাদের কর্তৃপক্ষ কেন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছে না? দু’দিন আগে থেকে ইমারজেন্সি ঘোষণা করে ভোট করাক। তা না হলে মানতে হবে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ। এইভাবে সাধারণ নাগরিকের অধিকার হরণ করা যায় না। আপনারা কেন কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে পারছেন না? শুধু বাইক কেন, তাহলে গাড়িও বন্ধ করে দিন। তাতেও তো লোকজন বোম, অস্ত্র নিয়ে গিয়ে গোলমাল পাকাতে পারে।” এদিন বিচারপতি আরও বলেন, “কোর্টকে দেখান, গত পাঁচ বছরে কত বাইকের বিরুদ্ধে FIR হয়েছে। কত ক্ষেত্রে বাইক বাহিনীর গোলমাল পাকানোর নজির আছে।”





