বঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচনে রেকর্ড ভোটদানের ইঙ্গিত দিল নির্বাচন কমিশন। উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল—সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেল মানুষকে। গণতান্ত্রিক উৎসবে এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে উঠে এল কিছু বিতর্কিত ছবিও। বিভিন্ন এলাকায় অভিযোগ, ভোটারদের আকৃষ্ট করতে খাবারের ব্যবস্থা করেছে রাজনৈতিক দলগুলি। ঝাড়গ্রামে ভোটারদের জন্য রান্না করা হয় খিচুড়ি ও মাংস। বীরভূমের দুবরাজপুরে বুথের সামনে ঘুগনি-মুড়ি বিক্রির ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়—বিজেপি নেতা দেবজ্যোতি সিং ও তনয় সরকার সেই খাবার উলটে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ির বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের জন্য পান-সুপারির ব্যবস্থাও নজরে আসে।
ঝাড়গ্রামে প্রথম দফার ভোটের দিন সকাল থেকেই সক্রিয় ছিল ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। এরই মাঝে বেলপাহাড়ির কাঁকড়াঝোড় এলাকায় এক ভিন্ন চিত্র সামনে আসে—ভোটারদের জন্য খিচুড়ি ও মাংস রান্নার আয়োজন করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। বেলপাহাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত কাঁকড়াঝোড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩ নম্বর বুথে মোট ৬৩২ জন ভোটার রয়েছেন। বুথের কাছাকাছি একটি স্থানে বড় বড় কড়াই বসিয়ে রান্না চলতে দেখা যায়। বেলার মধ্যেই খিচুড়ি ও মাংস প্রস্তুত হয়ে যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোট দিতে আসা মানুষদের জন্যই এই আয়োজন করা হয়েছিল বিজেপির পক্ষ থেকে। অনেক ভোটার ভোট দিয়ে ফেরার পথে সেই খাবার নিয়ে বাড়ি যান, আবার কেউ কেউ সেখানেই বসে খেয়ে নেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অংশগ্রহণ যতটা জরুরি, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলা—এই ঘটনাগুলি সেই প্রশ্নই আবার সামনে এনে দিল। এই ঘটনা সামনে আসতেই প্রশ্ন ওঠে, এটি কি ভোটারদের প্রভাবিত করার কৌশল? যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, এলাকায় বহু পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন, যারা ভোটের কারণে এবার ফিরেছেন। মূলত তাঁদের কথা ভেবেই এই আয়োজন করা হয়েছে, এর সঙ্গে ভোট প্রভাবিত করার কোনও সম্পর্ক নেই।
আবার জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ও ময়নাগুড়ি এলাকায় ভোটারদের মধ্যে পান-সুপারি বিতরণকে ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। বিজেপি ও তৃণমূল—উভয় দলের তরফেই এই আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ? তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ রাজনৈতিক দলগুলি। তাঁদের দাবি, ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক রীতি হিসেবে পান-সুপারি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। ফলে এই আয়োজনের সঙ্গে ভোটে প্রভাব ফেলার কোনও সম্পর্ক নেই বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।




