রাজ্যে সদ্য শেষ হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। সেই নির্বাচন মিটতেই আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গেল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। বৃহস্পতিবার মেটিয়াবুরুজের কারবালা পিঙ্ক স্কোয়ারের জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটেই বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের অঙ্গুলিহেলনে এজেন্সিদের মাতব্বরি আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার রুখতে আমি রাত ৩টে পর্যন্ত জেগে কর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছি।সাড়ে তিনটেয় ঘুমোতে যাওয়ার পরে ফের পাঁচটা থেকে আমি মনিটরিং করেছি। প্রত্যেকটা বুথে আমার অফিস কানেক্টেড ছিল। প্রথম দফার ভোটে বিজেপির দফারফা করে দিয়ে এসেছি।“
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তৃণমূলের কন্ট্রোল রুম থেকে ১৫২টি কেন্দ্রের ভোটে নজর রাখা হয়। নজর রেখেছিলেন অভিষেক নিজেও।
মেটিয়াবুরুজকে ‘মিনি পাকিস্তান’ বলে কটাক্ষ করায় বিজেপির বিরুদ্ধে এদিনের সভা থেকে সরব হন অভিষেক। তিনি বলেন, “মেটিয়াবুরুজকে নিয়ে করা বিদ্রুপ আমার গায়ে লেগেছিল। সেই কারণেই ২০১৮ সালে কলকাতার সবথেকে বড় জাতীয় পতাকা আমরা এখানে লাগিয়েছিলাম। দেশপ্রেমের জন্য মোদীর কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিতে হবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “মেটিয়াবুরুজ যেমন নিষ্ঠার সাথে ঈদ পালন করে, তেমনই সমান উৎসাহে দুর্গাপুজো ও দীপাবলিও পালন করে। এই সম্প্রীতির বাংলাকে যারা ভাগ করতে চায়, মানুষ তাদের শিক্ষা দেবে।“
সম্প্রতি বিজেপির প্রচারে বিভিন্ন প্রার্থী মাছের ব্যবহার করতে দেখা গেছে। সেই নিয়েও বিদ্রুপ করে অভিষেক বলেন, “যারা আমাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ব্যঙ্গ করত, তারা এখন মাছ হাতে নিয়ে ঘুরছে।” এর পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ও বিবেকানন্দকে নিয়ে বিজেপির বিভিন্ন সময়ের বিতর্কিত মন্তব্যের কথাও তিনি মনে করিয়ে দেন।
এছাড়াও এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একদিকে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে CBI, NIA এবং এক শ্রেণির সংবাদমাধ্যম, আর অন্যদিকে একা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবুও তৃণমূলকে আটকানো যাচ্ছে না কারণ মানুষের আশীর্বাদ সঙ্গে আছে।“ তৃণমূল আগামী ১০০ বছর মানুষের আবেগের সাথে বেইমানি করবে না বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।




