ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রয়েছে আরেক দফা। কিন্তু ফলাফল কী হতে পারে, তা নিয়ে এখন থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো করে হিসাব কষছে। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) দাবি করেছেন, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে জয় পেতে পারে তাদের দল। অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদলের দাবি, তারা ১৩০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে থাকবে।এই আবহেই বড় আশঙ্কার কথা প্রকাশ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেস যদি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তাহলে পরবর্তীতে বিধায়ক কেনাবেচার মাধ্যমে সরকার অস্থির করার চেষ্টা হতে পারে।
শনিবার ভবানীপুরে নিজের কেন্দ্রের একাধিক রোড শো ও জনসভা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bnaerjee)।রবিবার দুপুর থেকেও ভবানীপুরে প্রচারে নেমেছেন তিনি। এদিনও সেখানে তাঁর একাধিক রোড শো ও সভা রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ডাঃ রাজেন্দ্র রোড ও জাস্টিস দ্বারকানাথ রোডের সংযোগস্থলের এক সভায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিতে তিনি এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন। বলেন, তাঁদের সরকারই আবার ক্ষমতায় ফিরছে, এবং দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনিই সরকারকে নেতৃত্ব দেবেন।
তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমাদের সরকারই আসছে, আপনারা জানেন। আর সেক্ষত্রে পার্টির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমাকেই সরকার লিড করতে হবে। কিন্তু দুই তৃতীয়াংশ আসন যদি আমরা না পাই, তাহলে বিজেপি বসে আছে, বিধায়কদের কিনতে। যেভাবে ওরা মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশে সরকার করেছে। তাই আমার আবেদন, যে ১৪২ টি আসনে পরদিন ভোট আছে, আপনারা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের ভোট দিতে বিপুল আসনে জয়ী করুন।”
এদিনের বক্তব্যে তিনি নিজেকে চতুর্থবারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও তুলে ধরেন। ভবানীপুর কেন্দ্র এবার বিশেষভাবে আলোচনায়, কারণ এখানে লড়াই মূলত মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিরোধী দলনেতার মধ্যে। বিজেপির তরফে এখনও মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা না হলেও, এই কেন্দ্রের ফলাফল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
সব মিলিয়ে শেষ দফার আগে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে, আর তার মধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার বার্তা আরও জোরালো করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তাই শেষ দফার ভোটে তিনি ভোটারদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন—জোড়াফুল প্রতীকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে জয় নিশ্চিত করতে হবে।
প্রায় দেড় মাস ধরে টানা প্রচারের পর এখন নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে জোরকদমে জনসংযোগ চালাচ্ছেন তিনি। ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে পরিচিত হলেও প্রচারে কোনও ঢিলেমি রাখছেন না।




