প্রথম দফার নির্বাচনের পরই বিপুল জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার তৃণমূল ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটেই রাজ্যে চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় আসার পথ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, বিরোধী দল বিজেপির বর্তমান অবস্থাকে ‘প্যানিক রিয়্যাকশন’ বলে তীব্র কটাক্ষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল তরফে কুনাল ঘোষ ও ললিতেশ ত্রিপাঠী জানান, প্রথম দফায় রেকর্ড পরিমাণ ভোট পড়েছে এবং ভোটদানের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা। আসন সংখ্যার পরিসংখ্যান তুলে ধরে শাসক দলের দাবি, প্রথম দফায় যে ১৫২টি কেন্দ্রে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, তার মধ্যে অন্তত ১২৫ থেকে ১৩৫টি আসনেই তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করতে চলেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, “প্রথম দফায় চতুর্থ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় আসার ভিত পুজো হয়ে গিয়েছে, দ্বিতীয় দফা শুধু রেকর্ডটা ভাঙার অপেক্ষা।”
প্রথম দফার এই বিপুল জনসমর্থনের আভাস পেয়েই বিজেপি ভয় পেয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতাদের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে নিশানা করে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়, “এই পরিস্থিতিটা বুঝে ‘প্যানিক রিয়্যাকশন’ থেকে বিজেপি নেতারা প্রলাপ বকতে শুরু করেছেন।”এছাড়াও তৃণমূলের প্রতিনিধিদের মতে, প্রথম দফার ভোটের পর বিজেপির নিচুতলার কর্মীরা চরম হতাশ। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে সেই কর্মীরা যাতে মনোবল হারিয়ে একেবারে ঘরে না ঢুকে যান, তার জন্যই অক্সিজেন দেওয়ার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির।
তৃণমূল নেতাদের কটাক্ষ, “শুধুমাত্র দ্বিতীয় দফা ভোটে ওদের যতজন কর্মী আছেন, তাঁরা যাতে ভেঙে না পড়েন, তার জন্য ‘ভোকাল টনিক’ দেওয়ার মতোই দু-চারটে প্রলাপ বকছেন বিজেপি নেতারা।”বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটারদের হয়রান করা, বৈধ ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া এবং আধা সামরিক বাহিনীকে দিয়ে ভয় দেখানোর সব চক্রান্ত বাংলার মানুষ ব্যর্থ করে দিয়েছে।
অমিত শাহের বিরুদ্ধে ‘পাড়ার গুন্ডার ভাষা’ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেতৃত্ব বলেন, প্রথম দফার পরেই বিজেপি বুঝে গেছে তারা হারছে, তাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে বিভাজন এবং বিষ ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তৃণমূলের পাল্টা দাবি, আগে নিজেদের রাজ্যের সীমানা সামলাক বিজেপি, যেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে গঙ্গাবক্ষে ভ্রমণ নিয়ে এদিন তীব্র কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তৃণমূল নেতার খোঁচা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পরিষ্কার হওয়া গঙ্গায় প্রধানমন্ত্রী নৌকায় চড়ে ছবি তুলছেন, অথচ দিল্লির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া দূষিত ও ফেনা-যুক্ত যমুনায় তিনি ছবি তুলতে পারেন না!” প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে পকেটে পাঁচ টাকার কয়েন নিয়ে দুপুরে তৃণমূল সরকারের ‘মা ক্যান্টিনে’ এসে নিরামিষ খাওয়ার আমন্ত্রণও জানায় তৃণমূল কংগ্রেস।




