শনিবারে বালি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্রের সমর্থনে বালির এ.সি. মাঠে জনসভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এই জনসভা থেকে বালির বিজেপি প্রার্থীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। সেখানে অভিষেক বলেন, ‘‘যাকে হাওড়া মধ্যর মানুষ প্রত্যাখান করেছে, তাকে পাঠিয়ে দিয়েছে হাওড়ার বালিতে লড়ার জন্য। কাপড় জামা চৈত্র সেলে বিক্রি হয়, যেগুলি সারা বছর দোকানে বিক্রি হয় না। জোর জবরদস্তি সেগুলি ৪০%, ৫০% ডিসকাউন্টে বিক্রি করা হয়। যদি এক মানুষ দু’বার হারে, তাকে এমনিতেই জেলা থেকে মানুষ বহিষ্কার করে দেয়। যেমনভাবে এক ক্লাসে দু’বার ফেল করলে ছাত্রদের টিসি দেওয়া হয়।’’এর পাশাপাশি ভোটে জেতা নিয়ে প্রত্যয়ী অভিষেক বলেন, প্রথম দফায় সেঞ্চুরি পার হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় দল ডবল সেঞ্চুরি পার করবে। এছাড়াও সভা থেকে তিনি বালির পুরসভা নির্বাচন নিয়ে বড় ঘোষণাও করেন।
এদিনে সভা থেকে মোদীকে (Narendra Modi) নিশানা করে অভিষেক বলেন, ‘‘ভোটের সময় খালি বেলুড় মঠ মনে পড়লে হবে না। ভোটের সময় স্বামীজিকে মনে করলে হবে না। ভোটের সময় ঝালমুড়ি খেলেও হবে না। ভোটের পরেও আসতে হবে। খালি ঝালমুড়ি কেন? কলকাতার ফুচকাও খুব ভাল। ঘুগনিও ভাল। মিষ্টিও ভাল। রসগোল্লাও ভাল। ভোটের সময় ঝালমুড়ি খেয়ে মানুষকে বোকা বানাতে চায়। যেই রাস্তাটা দিয়ে হাঁটছেন, বারো বছর আগে ঝাড়গ্রামে হেলিকপ্টার নামতো না। রাস্তাঘাট ছিল না। যে রাস্তাটা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খেতে গেছেন, সেটাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তৈরি করা। যে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা। যে দোকানে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া। আর যে ঝালমুড়ি বিক্রি করছে, সে বলছে আমরা বাড়ি বিহারে, গয়া। যদি ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে এত কর্মসংস্থান হয়, তাহলে গয়ার ছেলেকে বিহার থেকে এসে ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি বিক্রি করতে হচ্ছে কেন? তাহলে বিহারের কর্মসংস্থান কোথায় গেল? উত্তর আছে? আপনারা বলেন বাংলায় কর্মসংস্থান নেই। গত দশ বছরে ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে এক কোটি বারো লক্ষ কর্মসংস্থান তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তৈরি করেছে।’’
বিধানসভা নির্বাচনের পর ছয় মাসের মধ্যে বালিতে পুরসভা নির্বাচন হবে বলেও কথা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, ‘‘আইনি জট, প্রশাসনিক জট এবং রাজ্যপালের ভূমিকার কারণে তা আটকে ছিল। আমাদের খাদ্যাভাস নিয়ে বিদ্রুপ করা হয়েছে। মাছ খাই বলে বাংলাদেশি বলা হয়েছে। বাংলা ভাষায় কথা বলায় আমাদের জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্রের একাধিক ঘটনা আপনারা দেখেছেন, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানের ঘটনা আপনারা দেখেছেন, আমার বিশ্বাস বাঙালি এর জবাব দেবে। এই দল আবার মানুষের কাছে ভোট চাইতে যায়।’’ এছাড়াও বলির বিজেপি প্রার্থীকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, ‘‘চার তারিখের পরে মাছের বাজারে নিয়ে গিয়ে মাছ কাটাবো। দোকানে বসিয়ে মাছও বিক্রি করাবো।’’




