ভোটের আবহে কলকাতা ও আশপাশে পরিবহন ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। পুলকার বন্ধ, রাস্তায় সরকারি-বেসরকারি বাসের সংখ্যাও কম—এই দুইয়ের জেরে শুক্রবার সকালেই স্কুলগামী পড়ুয়াদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। অনেকেই সময়মতো স্কুলে পৌঁছতে পারেনি, লেট হয়েছে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীর। এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে চলেছে আগামী সোমবার থেকে। কারণ, ভোটের দ্বিতীয় দফা (West Bengal Assembly Election 2026) -এর জন্য অধিকাংশ স্কুলবাস ও পুলকার নির্বাচন কমিশনের কাজে নিয়োজিত থাকবে। ফলে স্কুলে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বলেই আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে কলকাতার একাধিক স্কুল অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই সমস্যার কথা মাথায় রেখে কলকাতার বহু নামী স্কুল—যেমন সাউথ পয়েন্ট, ডিপিএস, বালিগঞ্জ শিক্ষা সদন, শ্রী শ্রী অ্যাকাডেমি, ক্যালকাটা বয়েজ—সোমবার থেকে অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী সোমবার থেকে ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন, অর্থাৎ ৪ মে পর্যন্ত পড়ুয়ারা বাড়ি থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যাবে।
পুলকার মালিক সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার থেকে সম্পূর্ণভাবে পুলকার পরিষেবা বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে, বাসমালিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০ শতাংশ বাস নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হবে। এর ফলে শুধু পড়ুয়াই নয়, অফিসগামী সাধারণ মানুষকেও চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হবে। এই পরিস্থিতি ৫ মে পর্যন্ত চলতে পারে বলে আশঙ্কা, এবং ৬-৭ মে নাগাদ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে পরিস্থিতি।
এদিকে, বাসমালিকদের একাংশ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগাম অর্থ এখনও তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি। যদিও কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সোমবারের মধ্যেই সেই টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, ভোটের মরসুমে শহরের পরিবহন সংকট শিক্ষাজগৎ থেকে সাধারণ জীবন—সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।




