রাজ্যে শিল্প ও বাণিজ্যের বিকাশের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে নবগঠিত বিজেপি সরকার। সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার সল্টলেকের বনবিতানে ‘অরণ্য সপ্তাহ ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রতীকী বৃক্ষরোপণের মধ্যেই অনুষ্ঠান সীমাবদ্ধ না রেখে, বনদপ্তরের উদ্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলপড়ুয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয় চারাগাছ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী সকলকে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।পাশাপাশি বেড়ে চলা ব্রজপাত প্রতিরোধে বেশি করে নারকেল গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন।
মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ‘অরণ্য সপ্তাহ ২০২৬’ চলবে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত। সূচনা অনুষ্ঠানে নিজ হাতে গাছ লাগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, চলতি বছরে রাজ্যজুড়ে ৭ লক্ষ ২০ হাজার গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে এবং এই কর্মসূচিতে স্কুল শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গকে আরও সবুজ ও বনভূমি সমৃদ্ধ করে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-সহ রাজ্যের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
এদিন বনদপ্তরের কাজের প্রশংসা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, বনদপ্তরে দীর্ঘদিনের কর্মী সংকট দূর করতে শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বনদপ্তরের নিয়োগ প্রক্রিয়া পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তাঁর কথায়, “আমি বনদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি। ওদের কর্মীর অভাব আছে। এবছরের মধ্যে সেই শূন্যপদ আমরা পূরণ করে দেব। এখন থেকে পুলিশ রিক্রটমেন্ট বোর্ড বনদপ্তরের নিয়োগটা করবে। তবে আপনারা সকলে ভালো করে কাজ করুন, নিরাপত্তা নিয়ে ভাববেন না। আগের সরকার তো কিছুই করেনি। আমরা ডবল ইঞ্জিনের সাহায্যে সব করে দেব।”
অনুষ্ঠানে পরিবেশ সচেতনতার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে বেশি করে নারকেল গাছ লাগানোরও পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাতেও বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সরকারের আশা, অরণ্য সপ্তাহকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে এবং সবুজ বাংলা গড়ার অভিযানে নতুন গতি আসবে।




