Header AD

‘সরি’ লিখেই কালীঘাট তৃণমূলকে বিদায়! মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রতের শিবিরে মদন মিত্র

madan raid

রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড়। দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অন্যতম ঘনিষ্ঠ নেতা কার্যত ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত মদন মিত্র (Madan Mitra)এবার কালীঘাটের শিবির ছেড়ে যোগ দিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’-এ। এই সিদ্ধান্তের আগে বহু বছরের সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হোয়াটসঅ্যাপে একটি মাত্র শব্দের বার্তা পাঠান—‘সরি’!

রাজনৈতিক জীবনে বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী মদন মিত্র। মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন, হারিয়েছেন, জেলও খেটেছেন, আবার জামিনে মুক্তিও পেয়েছেন। নানা বিতর্ক ও কঠিন সময়ের মধ্যেও তিনি কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করেননি। এমনকি যখন দলের একের পর এক নেতা দূরত্ব তৈরি করেছিলেন, তখনও তিনি প্রকাশ্যে ‘দিদি’র পাশেই ছিলেন। তবে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির তাঁর স্ত্রী ও ছেলেদের তলবের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত কালীঘাট শিবিরের সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন কামারহাটির বিধায়ক।

বুধবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিধানসভায় সাক্ষাৎ করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আসল তৃণমূল’-এ যোগ দেন মদন মিত্র। তবে দলবদলের পরও তিনি তাঁর প্রাক্তন নেত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলেননি। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন তিনি আমাদের পাশে ছিলেন। আমরাও নিজেদের মতো করে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।” একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, ভবিষ্যতে আর কালীঘাটের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক থাকবে না।

নতুন শিবিরে যোগ দেওয়ার পর বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র বলেন, “আমি তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই আছি। শুধু এক ঘর থেকে অন্য ঘরে এসেছি। আগের ঘরে হয়তো পালঙ্ক ছিল, কিন্তু আমি খাটিয়ার ঘরটাই বেছে নিয়েছি।”

এদিন দলের বর্তমান নেতৃত্ব, বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দল পরিচালনায় গণতান্ত্রিক পরিবেশের অভাব রয়েছে এবং একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব তৃণমূলের ক্ষতি করছে। মদনের কথায়, “এখনই যদি দলের হাল না ধরা যায়, তাহলে বিজেপিকে পরাজিত করা সম্ভব হবে না।” তিনি দাবি করেন শুধু শক্তি প্রদর্শন বা হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজনীতি হয় না। মানুষের কাছে যেতে হবে, তাঁদের আস্থা অর্জন করতে হবে।