লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ হওয়ার পরেই তার বিরোধিতায় গর্জে উঠলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার লোকসভায় বিরোধীদের তুমুল আপত্তির মধ্যেই, তিনটি বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রধানমন্ত্রী বা কোনও মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা ৩০ দিনের বেশি জেলে থাকলে, তাদের পদ হারাতে হবে- তেমনটাই বলা হয়েছে এই বিলে। বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই বিলটি পেশ করা হয়। আর তারপরেই স্যোশাল মিডিয়ায় বিলের বিরোধিতা করে গর্জে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটাকে গণতন্ত্রের কালো দিন বলে তীব্র নিন্দা করেন মমতা।নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন,“আজ কেন্দ্রীয় সরকারের পেশ করা ১৩০তম সাংবিধান সংশোধনী বিলের নিন্দা জানাই। আমি এটিকে জরুরি অবস্থার চেয়েও বেশি পদক্ষেপ হিসেবে নিন্দা জানাই। ভারতের গণতন্ত্রকে চিরতরে শেষ করার একটি পদক্ষেপ। এই কঠোর পদক্ষেপ ভারতে গণতন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রীয়তার জন্য মৃত্যুঘণ্টা।বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর নামে ভারতীয় নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পরে এটি কেন্দ্রের আরেকটি অতি-কঠোর পদক্ষেপ”।এই বিল দেশেরে আইন ব্যবস্থাকে শেষ করতে চায় বলে অভিযোগ জানিয়েছে বাংলার মুথ্যমন্ত্রী। তিনি আরও লেখেন,“এই বিলটি এখন আমাদের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শেষ করতে চায়। আমরা যা দেখছি তা নজিরবিহীন – বিলটি ভারতীয় গণতন্ত্রের আত্মার উপর হিটলারের আক্রমণের চেয়ে কম কিছু নয়। বিলটি বিচার বিভাগের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে – ন্যায়বিচার এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় ভারসাম্যের একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিষয়গুলির বিচারে আদালতের ক্ষমতা কেড়ে নিতে চাইছে। দলের হাতে এই ক্ষমতা দিয়ে বিলটি গণতন্ত্রকে বিকৃত করেছে”। মমতার কথায়, “এটি সংস্কার নয়। এটি এমন একটি ব্যবস্থার প্রতি পশ্চাদপসরণ যেখানে আইন আর স্বাধীন আদালতের হাতে থাকে না বরং স্বার্থান্বেষীদের হাতে চলে যায়। এটি এমন একটি শাসন প্রতিষ্ঠার একটি ভয়ঙ্কর অপচেষ্টা যেখানে বিচারের তদন্তকে স্তব্ধ করে। সাংবিধানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা এবং জনগণের অধিকার পদদলিত করা হয়। এইভাবে কায়েমী শাসনব্যবস্থা, এমনকী ইতিহাসে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাও ক্ষমতাকে এক করে দেয়। বিংশ শতাব্দীর অন্ধকারতম অধ্যায়গুলিতে বিশ্ব একসময় যে মানসিকতার নিন্দা করেছিল, এটি তারই গন্ধমাখা”। আদালতের স্বাধীনতার উপর এই বিল আঘাত বলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “আদালতকে দুর্বল করা মানে জনগণকে দুর্বল করা। তাদের ন্যায়বিচার চাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা মানে গণতন্ত্রকেই অস্বীকার করা। বিলটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো – ফেডারেলিজম, ক্ষমতা পৃথকীকরণ এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা – নীতিগুলিকে আঘাত করে – যা সংসদও অগ্রাহ্য করতে পারে না। যদি এটি পাশ করা হয়, তবে এটি ভারতে সাংবিধানিক শাসনের জন্য মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানা হবে।আমাদের এই বিপজ্জনক সীমালঙ্ঘনকে প্রতিহত করতে হবে। আমাদের সংবিধান ক্ষমতার অস্থায়ী আসনে অধিষ্ঠিতদের সম্পত্তি নয়। এটি ভারতের জনগণের।বিলের উদ্দেশ্য হল এক ব্যক্তি-এক-দল-এক সরকার ব্যবস্থাকে সুসংহত করা। বিলটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে পদদলিত করে।বিলটি নির্বাচিত রাজ্য সরকারের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করার জন্য অনির্বাচিত কর্তৃপক্ষকে (ইডি, সিবিআই – যাদের সুপ্রিম কোর্ট ‘খাঁচাবদ্ধ তোতা’ বলে বর্ণনা করেছে) ব্যাপক ক্ষমতা দেয়। এটি আমাদের সংবিধানের মৌলিক নীতির বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অশুভ উপায়ে ক্ষমতায়িত করার একটি পদক্ষেপ”। বিলের তীব্র বিরোধিতা করে তৃণমূল সভানেত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “যেকোনও মূল্যে বিলটি প্রতিহত করতে হবে! এই মুহূর্তে গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে! জনগণ তাদের আদালত, তাদের অধিকার এবং তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টাকে ক্ষমা করবে না।জয় হিন্দ!”





