বাংলায় শান্তিপূর্ণ ভোট করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্র ও কমিশন। ভোটে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করতে যতরকম পদক্ষেপ করা যায়, তার সবটাই করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট মিটেছে নির্বিঘ্নে। দ্বিতীয় দফায় (WB 2nd Phase Election 2026) কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হচ্ছে। সকাল থেকে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাই ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। ভাঙ্গড় সহ একাধিক জায়গায় অশান্তি হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জের খবর মিলেছে একাধিক জায়গায়। মহিলা ও শিশুরাও ছাড় পায়নি। এমনকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছে হেনস্তার পর হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বিকেলে ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে গিয়ে এই নিয়ে বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, লজ্জাও করে না, মানুষকে কী মারটাই মেরেছে। এরপরই জয় নিয়ে প্রত্যয়ী মমতা দাবি করেন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরবে।
দ্বিতীয়া দফার ভোটের সবচেয়ে বড় খবর হয়ে দাঁড়ায় সকালে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বুথ পরিদর্শন। চেতলা, চক্রবেরিয়ার বুথগুলি থেকে তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে বারবার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি তৃণমূল সুপ্রিমো পুলিশ পর্যবেক্ষকদের ভূমিকায় বিরক্তি প্রকাশ করে বিবৃতিও দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘নির্বাচন কমিশন খোলামেলাভাবে আমাদের উপর অত্যাচার করছে। বাইরে থেকে এতজন পুলিশকে নিয়ে এসেছে আর তাঁরা সবাই বিজেপির সুরে নাচছে। কিছু করছে না, শুধু মানুষকে গিয়ে ভয় দেখাচ্ছে, ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করছে। চক্রবেড়িয়ায় গিয়ে দেখলাম, আমাদের দলের পোস্টার ছিড়ে ফেলা হয়েছে। এভাবে কি ভোট হয়? পুলিশ, বাহিনী নয়, ভোটটা তো দিচ্ছে মানুষ। মানুষের রায়েই তাঁদের খুব দ্রুত বাংলা ছাড়তে হবে।”
এদিন বিকেলে একবালপুরে একটি বুথ পরিদর্শনে গিয়ে ফের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানেও কেন্দ্রীয় সরকার ও কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর বক্তব্য, “সিআরপিএফ খুব নোংরামি করেছে। সেন্ট্রাল ফোর্স, ওরা যা অত্যাচার করেছে কাল সারারাত ধরে। চারিদিকে অত্যাচার করে বেড়াচ্ছে। আমি তো সকাল ৬টা পর্যন্ত দেখেছি। ওদের কাছে ইনস্ট্রাকশন আছে। প্রধানমন্ত্রী, সরাষ্ট্রমন্ত্রী দুজনেরই নির্দেশ আছে। বলেছে, সকলকে ধরে মারো,যাতে কেউ লাইনে দাঁড়াতে না পারে। এগুলো কেন করে?” দ্বিতীয় দফায় সর্বত্র স্লো ভোট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা।
বাহিনীর অতিসক্রিয়তা সত্ত্বেও মানুষ যে হারে ভোট দিয়েছে তাতে জয় নিয়ে নিশ্চিত মমতা। তিনি বলেন, “অনেক জায়গায় আমাদের ছেলেদের মেরেছে, বুথে বসতে পর্যন্ত দেয়নি।” এরপরই তাঁর প্রত্যয়ী ঘোষণা, “এত অত্যাচার করেছে। তা সত্ত্বেও আমরা আশাবাদী ২০০ পার করব। সংখ্যাটা কোথায় দাঁড়াবে সেটা মানুষ ঠিক করবে।”




