ভোটের (West Bengal Assembly Election)প্রাক্কালে কলকাতায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। সোমবার গভীর রাতে কলকাতার মেয়র তথা তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিম-এর (Firhad Hakim) চেতলার বাড়িতে যান কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) সদস্য ও পুলিশ পর্যবেক্ষক—এমনই অভিযোগ উঠেছে। সেই সময় তাঁকে ধমকানো হয় বলেও দাবি করেছেন তিনি। ফিরহাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে ডেকে এলাকায় যেন কোনও অশান্তি না হয় এবং ভোটে এজেন্টদের বসতে বাধা না দেওয়া হয়—এই নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, কোনও সমস্যা তৈরি হলে “বুঝে নেওয়া হবে” বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দাবি করেন, চেতলা এলাকায় অতীতে কখনও অশান্তির নজির নেই। এই ঘটনা তাঁকে নকশাল আমলের স্মৃতি মনে করাচ্ছে বলেও দাবি করেন ফিরহাদ হাকিম।
এই ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি অতীতের নকশাল আমলের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর কথায়, “সেই সময় যেমন বাড়ি বাড়ি তল্লাশি হত, তেমন পরিবেশের কথা মনে পড়ে গেল।” ফিরহাদের দাবি, “নকশাল সময়ে এমন দেখেছিলাম। হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে কিছু হলে বুঝে নেওয়া হবে। চেতলায় কোনও দিন অশান্তি হয়নি। আমাকে ধমকাচ্ছে।” একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তিনি কখনও কোনও ধরনের বেআইনি কাজ বা হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, যে কারণে তাঁকে এভাবে ‘চমকানো’ হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আর কয়েক ঘণ্টা পরেই রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। এই পর্যায়ে ৭টি জেলার ১৪২টি আসনে ভোট হবে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে এই পর্বে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। শুধু কলকাতাতেই মোতায়েন করা হয়েছে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক। তবে বিভিন্ন জায়গা থেকেই অভিযোগ উঠছে, এই নিরাপত্তা বাহিনী ও পর্যবেক্ষকদের একাংশ নাকি ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং প্রার্থীদের উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করছেন। ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগ সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল।




