Header AD

মহিলা ও শিশুদের ভয় দেখিয়ে ভোট কেন! কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা তৃণমূলের

arup

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগের দিন রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল। নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ , ভোট প্রক্রিয়াকে ভয়ভীতির মাধ্যমে প্রভাবিত করা হচ্ছে।রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas)সরাসরি নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India) এবং জ্ঞানেশ কুমার-এর (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে ভোট আদায়ের চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যেন রাজ্যে ভোট নয়, যুদ্ধ চলছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিরিক্ত উপস্থিতি এবং বাড়ি বাড়ি তল্লাশি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—এভাবে কি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব? নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তাঁর আরও প্রশ্ন, “মহিলা-শিশুদের ভয় দেখিয়ে কী রকম ভোট চলছে?” অন্যদিকে তৃণমূলের আরেক প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya) কথায়, মানুষ এই অন্যায়ের জবাব দেবে।

অরূপ বিশ্বাস এদিন আরও বলেন, বাংলায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা না নিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তিনি আত্মবিশ্বাসী, মানুষ নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তার জবাব দেবে।রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের কথায় , “মানুষকে ভীত সন্ত্রস্ত করে দিচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট চান না মানুষের কাছ থেকে জোর করে আদায় করতে চান। নির্বাচন কমিশন এবং জ্ঞানেশ কুমার মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট আদায় করতে চান। মনে হচ্ছে যুদ্ধ চলছে, শুধু নৌসেনা আর বায়ুসেনা নেই। এটা ভোট না যুদ্ধ? মানুষ তাঁর গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, নির্বাচন কমিশন দেখবেন যে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন হচ্ছে কিনা, কিন্তু তা না করে ১০০-১৫০ সেনা বাহিনী মানুষের বাড়িতে ঢুকে যাচ্ছে। মানুষ ভয় পাচ্ছেন। আপনারা বলছেন সিঙ্ঘম এসেছেন, আর তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা হলেন পুষ্পা, ঝুকেগা নেহি। লড়াই চলছে চলবে। এবঙ্গ ৪ মে’র পর বিজয় উৎসবে দেখা হবে।”

পাশাপাশি বাংলার ভোটে কমিশন নিযুক্ত অজয় পাল শর্মার নিয়োগ নিয়ে অরূপ বিশ্বাস দাবি করেন, “এটা তো উত্তরপ্রদেশ নয় এখানে এনকাউন্টারের প্রয়োজন হয় না। আর এটা ভোট হচ্ছে। এখানে এনকাউন্টার স্পেশালিস্টের কোনও দরকার নেই। জ্ঞানেশ কুমারকে প্রশ্ন- এটা কী রকম ভোট হচ্ছে যেখানে ঘরে ঢুকে মহিলা-শিশুদের ভয় দেখনো হচ্ছে? ভয় দেখালে কিছু হবে না। আমরা সিপিআইএম-এর সঙ্গে লড়াই করে এ রাজ্যে এসেছি। নির্বাচন কমিশন (Election Commission) এবং তার সঙ্গে যুক্ত লোকেরা যেভাবে হোক বিজেপিকে জেতানোর চেষ্টা করছে। এখানে ভোটার লিস্টেও বঞ্চনা। যতই বঞ্চনা করুক বাংলা চিরকাল পথ দেখিয়েছে, বাংলা স্বাধীনতা আন্দোলনে পথ দেখিয়েছে, আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যেয় নেতৃত্বে বাংলা দেশকে পথ দেখাবে। তৃণমূল কংগ্রেস ২৫০-এর বেশি আসন পাবে।”

অন্যদিকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “একদফা ভোট হয়ে গিয়েছে। সেখানে মানুষে নিজের ভোটদান করেছেন। আগামিকাল আরও একদফা ভোট। মানুষ সঠিক জবাব দেবেন।”
তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, ভোটার তালিকাতেও বঞ্চনা করা হচ্ছে। তবে সব বাধা পেরিয়ে বাংলার মানুষই শেষ কথা বলবে বলে তারা মনে করছে। দলীয় নেতৃত্বের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস বড় জয় পাবে এবং ৪ মে-র পর বিজয় উৎসব হবে।