Header AD

এক বালক খুনের ঘটনায় উত্তাল নদীয়ার তেহট্ট, অভিযুক্ত ২ জনের গণপিটুনিতে মৃত্যু

এক বালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড নদীয়ার তেহট্ট এলাকায়। বিকেলে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় বালক স্বর্ণাভ। পরদিন সকালে পুকুর থেকে তার ত্রিপলে মোড়া দেহ উদ্ধার হয়। বালক খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় প্রতিবেশী উৎপল  এবং সোমা বিশ্বাসের। গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে তাঁদেরও। কী কারণে এই খুন এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থলে স্নিফার ডগ নিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ।

শুক্রবার স্বর্ণাভর স্কুল ছুটি ছিল। ছুটি থাকলে সারাদিন খেলাধুলাই করত সে। শুক্রবার দুপুরের খাওয়াদাওয়ার পর ৩টে নাগাদ বেরিয়ে যায়। সন্ধ্যাতেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। নিহত বালকের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “বাড়ির পিছনে গেট দিয়ে গেলাম। স্বর্ণাভ, স্বর্ণাভ বলে ডাকলাম। যাদের বাড়িতে যায় সেখানেও গেলাম। অনেক ডাকলাম। সবাই আছে। শুধু আমার ছেলেটাই ছিল না। সারারাত খোঁজা হল। থানায় ডায়েরি করা হয়। সকালেও খুঁজছিল। তারপর জানতে পারি উৎপল নাকি  অপহরণ করেছিল। তখন সকলে ওকে চেপে ধরে জিজ্ঞেস করে। জেরায় নাকি ও স্বীকার করে ছেলেকে মেরে ফেলে দিয়েছে।”  ছাত্রের বাবাও বলেন, “অভিযোগ করা মাত্র পুলিশ এসেছিল রাতে। স্কুল না থাকলে একটু খেলতে যায়। সেরকম গিয়েছিল। কী যে হল!”

শোনা যাচ্ছে, শিশুপাচারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন উৎপল। স্বর্ণাভকেও সম্ভবত পাচার করতে চেয়েছিলেন  তিনি। তাতে বাধা পাওয়ায় এই কাজ করেছেন। তবে কারও কারও দাবি, উৎপলের সঙ্গে পুরনো বিবাদ ছিল নিহত বালকের পরিবারের। যদিও সে দাবি খারিজ করে দিয়েছেন নিহতের বাবা। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে ওর কোনও ঝুট ঝামেলা নেই। সন্দেহ ছিল না প্রথমে। পরে দেখলাম ওর বাড়ির কাছ থেকে দেহ পেলাম। শুনলাম ওর স্ত্রী নাকি বলেছে আমরাই মেরেছি।” সত্যি উৎপল যুক্ত কিনা, সে বিষয়ে পুলিশের তরফে কিছু জানানো হয়নি। আপাতত নিহত বালক, উৎপল এবং সোমার দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে আসার পরই বালকের মৃত্যু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।