হম্বিতম্বিই সার। ২২ গজে কার্যত কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারল না পাকিস্তান। দুবাইয়ে এশিয়া কাপের গ্ৰুপ ম্যাচে সলমন আঘাদের দুরমুশ করে হারালেন সূর্যকুমার যাদব – তিলক বর্মারা। ২৫ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে জয় পেল ভারত। প্রথম থেকেই ম্যাচের রাশ ছিল ভারতের হাতে। একবারের জন্য পাক দলকে দেখে মনে হয়নি তারা এই ম্যাচটি জিততে পারে। এতটাই কর্তৃত্ব ছিল গৌতম গম্ভীরের ছেলেদের। শুরু থেকেই নিয়মিত হারে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। একটা সময় ৯৭ রানে ৮ উইকেট পড়ে গিয়েছিল তাদের। শেষ দিকে শাহিন শাহ আফ্রিদির ১৬ বলে ৩৩ রানের সৌজন্যে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান তোলে পাকিস্তান। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ক্রিকেট মাঠে প্রথম বার মুখোমুখি হল ভারত ও পাকিস্তান। এই ম্যাচ বয়কটের দাবিও উঠেছিল। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানিয়ে দিয়েছে, বড় প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে কোনও আপত্তি নেই তাদের। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বর্তমান সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ক্রিকেট খেলা উচিত কি না তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছিল। গত মাসে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অফ লেজেন্ডসে গ্রুপ পর্ব ও সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি হয়নি ভারত। নাম তুলে নিয়েছিল তারা। কিন্তু ভারতীয় বোর্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় না খেললেও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি আয়োজিত প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে আপত্তি নেই তাদের।তবে নিজেদের মতো করে প্রতিবাদ করে ভারতীয় দল। টসের পর পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আঘার সঙ্গে হাত মেলালেন না ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। বুঝিয়ে দিলেন, খেলতে নামলেও কোনও রকমের সম্মান তাঁরা দেখাবেন না। টস শেষে দু’দলের অধিনায়ক সাধারণত হাত মেলান। কিন্তু সূর্য সলমনের সঙ্গে হাত না মিলিয়েই ডাগ আউটের দিকে এগিয়ে যান। মাঠের বাইরে গ্যালারিতেও চলছিল আর এক লড়াই। সেখানেও এগিয়ে ছিল ভারত। খেলা যত গড়াল তত ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনিতে মুখরিত হল গ্যালারি। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, লড়াইটা ভারতীয় ক্রিকেটার ও সমর্থকদের কাছে যুদ্ধের থেকে কম কিছু ছিল না।শুরু থেকে পাকিস্তানের ব্যাটারদের একের পর এক খারাপ শট কুলদীপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তীদের কাজ সহজ করে দিল। সাইম আয়ুব থেকে মহম্মদ হ্যারিস, সলমন আঘা থেকে হাসান নওয়াজ়, কেউ বাদ গেলেন না। যেন কে কতটা খারাপ শট খেলবেন তার প্রতিযোগিতা করছিলেন! হার্দিক পান্ডিয়া প্রথম ওভারেই উইকেট পেলেন। দ্বিতীয় ওভারেও দেশকে উইকেট এনে দিলেন জসপ্রীত বুমরাহ। ফখর জামানকেও একই ওভারে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তান সেসময় ৬ রানে ৩ উইকেট হারাতে বসেছিল। রিভিউ নিয়ে কোনোক্রমে বাঁচেন ফকর। শুরু থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত ক্রিজ়ে ছিলেন সাহিবজ়াদা ফারহান। তিনিই একমাত্র সতীর্থদের মতো খারাপ শট খেলার দিকে ঝোঁকেননি। কিন্তু ক্রিজ়ে টিকে থাকতে গিয়ে এতটাই বেশি বল খেললেন যে পাকিস্তান রান রেট অনেকটা কমে গেল। শেষের দিকে সেই খারাপ শট খেলেই ফিরতে হল তাঁকে। হার্দিক – বুমরাহ উইকেট পেলেও আজ সেরা ছন্দে ছিলেন না। ভারতের হয়ে কুলদীপ যাদব ১৮ রানে ৩ উইকেট নিলেন। ম্যাচের সেরাও তিনি। অক্ষর প্যাটেল একই রান খরচ করে পেলেন ২ উইকেট।টসে জেতার সময় হয়তো সলমন ভেবেছিলেন পরের দিকে পিচ মন্থর হয়ে যাবে। ভারতকে দেখে মনে হল, তারা অন্য পিচে ব্যাট করতে নেমেছে। এই পিচে ঠিক কী ভাবে খেলতে হয় তার শিক্ষা পাকিস্তানকে দিয়ে দিল ভারত। বিপক্ষের সেরা বোলার শাহিনকে অভিষেক শর্মা স্বাগত জানালেন চার এবং ছয় দিয়ে। দলের সেরা বোলারই যদি প্রথম দু’বলে দশ রান দেন, তা হলে আত্মবিশ্বাস পড়ে যেতে বাধ্য। পাকিস্তানকে দেখেও সেটাই মনে হল। অভিষেক ১৩ বলে করলেন ৩১। রান হয়তো কম, তবে যথেষ্ট প্রয়োজনীয়। শাহিনকে ৮৫ মিটার ছয় মেরে তাঁর আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়ে দিলেন। তা থেকে আর গোটা ম্যাচে বেরোতে পারলেন না শাহিদ আফ্রিদির জামাই। দু’ওভার করার পর তাঁকে আর বল করতে আনা হল যখন, তখন আর ম্যাচে কিছু বাকি ছিল না। দু’টি উইকেট হারানোর পর তিলক বর্মা এবং সূর্যকুমারের কাজ ছিল ঠান্ডা মাথায় দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অধিনায়কোচিত ইনিংস খেললেন সূর্যকুমার। একাই যাবতীয় দায়িত্ব নিয়ে নিলেন নিজের ঘাড়ে। তিলক আউট হয়ে গেলেও শেষপর্যন্ত থেকে দেশকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়লেন স্কাই। টসে যে প্রতিবাদের শুরুটা করেছিলেন তিনি , তাই মাঠে আগুনের মত ছড়িয়ে পড়ল। এতদিন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সূর্যর সেরা স্কোর ছিল ১৮। আজ ৩৭ বলে ৪৭ রান করে সেটাকেও পেরিয়ে গেলেন তিনি। খেলা শেষেও পাক ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত না মিলিয়েই সাজঘরে ফিরে গেলেন ভারতীয় ক্রিকেটারেরা।





