Header AD

দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণ! আটক নির্যাতিতার বন্ধু, ১২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট তলব স্বাস্থ্যভবনের

ফের এক ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল। দুর্গাপুরের শোভাপুর এলাকার একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ওই নির্যাতিতা। তিনি ওড়িশার জলেশ্বরের বাসিন্দা। শুক্রবার রাতে এক পরিচিতের সঙ্গে কলেজের বাইরে খাবার খেতে সহপাঠীর সঙ্গে বেরিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, কয়েক জন যুবক তাঁদের উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন। তারপর নির্যাতিতাকে জঙ্গলে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করা হয় বলে অভিযোগ। পরে ঘটনা জানাজানি হতে তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দুর্গাপুরের নিউটাউনশিপ থানার পুলিশ । ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তরুণী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানেই নির্যাতিতার বয়ান নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজের কাছ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট  তলব করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা – নয়টা নাগাদ এক বন্ধুর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে বেরন নির্যাতিতা। অভিযোগ, নির্যাতনের আগে তাঁর কাছ থেকে মোবাইল এবং টাকাপয়সা কেড়ে নেওয়া হয়। এমনকী পুরুষ সঙ্গীকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই সময় পালিয়ে গেলেও পরে তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তি করান ওই সঙ্গীই। যদিও তাঁর দাবি খতিয়ে দেখতে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ  কমিশনারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে। পুলিশের কাছে নতুন তথ্য এলে তা নিশ্চই জানানো হবে। এই নিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, অত্যন্ত খারাপ অনভিপ্রেত ঘটনা। কী হয়েছে, কারা করল, চেনা পরিচিত কেউ ছিল কি না এসব পুলিশ খোঁজ নিয়ে দেখছে। সবতা না জেনে মন্তব্য করতে চাই না।”

অন্য পড়ুয়াদের কাছে ঘটনার কথা জানতে পেরে শনিবার সকালে ওড়িশা থেকে দুর্গাপুরে আসেন নির্যাতিতার বাবা এবং পরিবারের অন্য সদস্যেরা। নির্যাতিতার বাবা জানান, তাঁর মেয়ে এখানে নিরাপদ নন। দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবিও করেছেন তিনি। তবে সঠিক তদন্তের বিষয়ে পুলিশ তাঁদের আশ্বস্ত করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে নির্যাতিতা তরুণীর মায়ের অভিযোগ, বন্ধুই তাঁর মেয়েকে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে বলেছিলেন। তারপর ঘটনার সময় জঙ্গলে লুকিয়ে পড়েন।

প্রসঙ্গত ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে এক ডাক্তারি পড়ুয়াকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। সেই ঘটনায় দোষীর শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়েছিল বাংলার সঙ্গে গোটা দেশ। প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল বিদেশেও।  ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি শিয়ালদহ আদালতের বিচারক অনির্বাণ দাস রায় সাজা ঘোষণা করেন।