Header AD

“ভিক্ষা চাই না, আমাদের সাধ্যমত মানুষকে সাহায্য করছি” , দার্জিলিঙে পর্যালোচনা বৈঠকে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

“আমরা ভিক্ষা চাই না। আজ পর্যন্ত একটা পয়সাও কোথাও থেকে পাইনি। এত বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আমাদের সাধ্যমত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। কেউ যদি রিলিফ ফান্ডে নিজের থেকে অর্থসাহায্য করতে চান, তাহলে দিতে পারেন। আমি ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছি। রাজ্যের মন্ত্রীরা প্রত্যেকে ১ লক্ষ টাকা করে দান করেছেন। “ দার্জিলিঙের লালকুঠিতে সরকারি পর্যালোচলা বৈঠকে এভাবেই কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে আবার সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)।  সেই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্গঠনের কাজে এবার সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে এসে রাজ্যের তহবিলে দান করার আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী । পাশাপাশি এদিনের বৈঠকে উত্তরবঙ্গের প্রকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতির ও পুনর্বাসনের কাজের বিস্তারিত খতিয়ান দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।

 বুধবার দার্জিলিংয়ে (Darjeeling) উত্তরবঙ্গের বিপর্যয় নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক  তিনি জানান, কোনও নগদ অর্থ নয়, যাঁরা আর্থিক সাহায্য করতে চান, তাঁরা সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান। রাজের মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী সফরসঙ্গী অরূপ বিশ্বাসকে দিয়ে ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের (Bank Account) নম্বর বিস্তারিত জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে জেলাশাসককে নির্দেশ দেন, অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ বিবরণ সবাইকে জানানোর। এ বিষয় ফের কেন্দ্রের (Central) বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী । তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যের বকেয়া দেয় না কেন্দ্র। একশো দিনের কাজ থেকে শুরু করে আবাস, সড়ক কোনও টাকা বাংলাতে দেয় না মোদি সরকার (Modi Goverment)। তা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার একাই সব সামাল দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।

গত কয়েকদিন আগে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তরবঙ্গের মিরিক, নাগরাকাটাসহ দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহারের বিস্তীর্ণ এলাকা। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তুলে ধরে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দার্জিলিঙের ৯টি ব্লক,৪টি পুরসভার ৭০০০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শুধু দার্জিলিঙেই ১৩০০ মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। ৩৭টা রিলিফ ক্যাম্প হয়েছিল প্রাথমিক অবস্থায়, এখনও ১৭টা ক্যাম্প চলছে। সেখানে ৭৫০ মানুষ রয়েছেন। চলছে ডাক্তারি ক্যাম্প, নথিপত্র তৈরি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্প। ২০০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। শুরুতে৩০০০০ মানুষকে ক্যাম্পে রান্না করে খাওয়ানো হচ্ছিল। এখন ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ডিএম-এর তরফে ১৬০০০ রিলিফ কিট দেওয়া হয়েছে। আমিও নিজেও গতবার এবং এইবার রিলিফ নিয়ে এসেছি। আমি মিরিক আর সুখিয়াপোখরির ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করেছি।“ এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, এই বিপর্যয়ে মৃত ৩২ জন । তাঁদের পরিবারের হাতে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ও হোমগার্ডের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছি। গোটা উত্তরবঙ্গে রাস্তা, ব্রিজ, বাড়ি,স্কুল, হেলথ সেন্টার সব কিছু নষ্ট হয়েছে। সেগুলো আমরা তৈরি করে দেব। একটু সময় লাগবে।২২৮টির বেশি পানীয় জলের প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ট্যাঙ্কার, পাউচের মাধ্যমে পানীয় জলের সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছি। বিদ্যুতের লাইন নষ্ট হয়েছে। জল কমলে তবেই সেগুলোর মেরামতির কাজ শুরু হবে। চা বাগান, কৃষি জমিরও প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের বলব, কৃষি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।“

পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, “ভুটানের জলে উত্তরবঙ্গে এতবড় বিপর্যয় ঘটে গেল। ওদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। ভুটানের জল কমাতে হবে। ওদের বাঁধের জল যাতে আমাদের রাজ্যে না আসে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা কেন বার বার ভুক্তভোগী হব?” পাশাপাশি বন্যা ও ভূমিধ্বস নিয়ন্ত্রণে বনবিভাগকে পাহাড়ে গাছ লাগানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।