আর জি কর কাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায়ের নাবালিকা ভাগ্নির রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় এবার সঞ্জয়ের দিদি ও জামাইবাবুর বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের হল। তাঁরা ওই নাবালিকার সৎ মা ও বাবা । পুলিশ সূত্রে খবর, ১১ বছরের নাতনির অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারেননি দক্ষিণ কলকাতার আলিপুরের বিদ্যাসাগর কলোনির বাসিন্দা তথা ওই নাবালিকার ঠাকুমা প্রতিমা সিং। তিনি নিজের ছেলে ভোলা সিং ও পুত্রবধূ পূজা সিংয়ের বিরুদ্ধে আলিপুর থানায় নাতনিকে খুন করার অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে ঠাকুমা ছাড়াও লিখিতভাবে ভোলা ও পূজার বিরুদ্ধে তাঁদের মেয়েকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন আলিপুরের ডি এল খান রোডের বিদ্যাসাগর কলোনির আরও বেশ কয়েকজন বাসিন্দাও। পুলিশের দাবি, যেহেতু খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তাই অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এর তদন্তের কাজ চলছে।
প্রসঙ্গত, সঞ্জয় রায়ের এগারো বছরের নাবালিকা ভাগ্নির রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় যথেষ্ট পরিমাণে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। পরবর্তীতে জানা যায়, সঞ্জয়ের এক দিদি ববিতা ও ভোলা সিংয়ের সন্তান ছিল ওই কিশোরী। তবে তার জন্মের সময় থেকেই পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার শ্যালিকা পূজার সঙ্গে ভোলার ঘনিষ্ঠতা শুরু হয়। বোনের সঙ্গে স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক না মানতে পেরে সঞ্জয়ের দিদি ববিতা আত্মঘাতী হন। এরপর পূজাকে বিয়ে করেন জামাইবাবু ভোলা সিং। মাসি থেকে কিশোরীর সৎ মা হয়ে যান পূজা সিং। মৃত কিশোরীর ঠাকুমা প্রতিমা সিং অভিযোগ করেন, নাতনি প্রায়ই লুকিয়ে এসে তাঁর কাছে বাবা ও সৎ মায়ের বিরুদ্ধে মারধরের নালিশ করতেন।এমনকী, কালীপুজো ও দীপাবলির আগে মেয়েকে বেল্ট দিয়েও মেরেছিলেন বাবা! সৎ মা ও বাবার এইরকম অত্যাচারের কারণেই মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার ঠাকুমা ও প্রতিবেশীদের একাংশ। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, মেয়েটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করা হয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন পুলিশ কর্মীরা।





