Header AD

উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম পর্বে মেধাতালিকায় ৬৯ জন, পাশের হার বাড়ল, দ্বাদশ স্থানে কলকাতা

প্রকাশিত হল উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম পর্বের ফল। পরীক্ষার ৩৯ দিনের মাথায় ফলাফল প্রকাশ করল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এ বারই প্রথম দেশের মধ্যে কোনও রাজ্যে সেমেস্টার পদ্ধতিতে দ্বাদশ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। ওএমআর শিট-এ এই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে এ রাজ্যের পড়ুয়ারা। আগের বছরের তুলনায় পাশের হার বেড়েছে। নতুন পদ্ধতিতেও জেলার জয়জয়কার। পাশের নিরিখে প্রথম স্থানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। ১২ নম্বর স্থানে রয়েছে কলকাতা। প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছে মোট ৬৯ জন। এদের মধ্যে মাত্র তিন জন ছাত্রী। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষা সংসদ জানিয়েছে, এ বছরের পাশের হার ৯৩.৭২ শতাংশ । গত কয়েক বছরে এই পাশের হার সর্বাধিক। পরীক্ষার ফলাফল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের ওয়েবসাইটে দেখা যাবে। অনলাইনে রেজ়াল্ট দেখতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। রোল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের তথ্য দিয়ে ওই ফলাফল ডাউনলোডও করা যাবে। পরীক্ষার ফলাফলে মোট নম্বর, প্রাপ্ত নম্বর, পার্সেন্টাইল, বিষয়ভিত্তিক প্রাপ্ত নম্বরের উল্লেখ  থাকবে। অনলাইনে মার্কশিট ডাউনলোড করার সুযোগও থাকছে। সফল ছাত্র-ছাত্রীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এক্স হ্যান্ডেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার তৃতীয় সেমিস্টারে সফল সকল ছাত্রছাত্রীকে জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। দেশের মধ্যে প্রথমবার সেমিস্টার পদ্ধতিতে উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষা হল। এই বিপুল আয়োজন সঠিকভাবে করার জন্য এর সঙ্গে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ। যারা এবার ভালো ফল করতে পারোনি তাদের বলব, হতাশ না হয়ে চতুর্থ সেমিস্টারে যাতে ভালো ফল হয় তার চেষ্টা কর।“

উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফে জানানো হয়েছে, মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮৩২ জন। মোট ৬৬টি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে ১৫টি ভাষাভিত্তিক বিষয়। বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি, হিন্দি, সাঁওতালি ভাষাতেও প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছিল। প্রথম পর্বের পরীক্ষায় ৯৮.৯৭ শতাংশ নম্বর নিয়ে প্রথম হয়েছে ঋতম বল্লভ এবং আদিত্যনারায়ণ জানা। দু’জনেই পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। ৯৮.৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছে দীপান্বিতা পাল। দক্ষিণ দিনাজপুরের দৌলতপুর হাইস্কুলের এই পড়ুয়ার সার্বিক স্থান চতুর্থ। ৯৮.৩৮ শতাংশ নম্বর পেয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে, আবদুল মোতালেক হাই মাদ্রাসা থেকে রেহান রিজভি। মেধাতালিকায় রয়েছে বাণিজ্য বিভাগের এক পড়ুয়া — ৯৭.৫০ শতাংশ নম্বর নিয়ে অষ্টম হয়েছে গোলাম ফৈজল। সে এপি ডিইপিইটি ক্যালকাটা মাদ্রাসায় পড়ছে। সর্বোচ্চ নম্বরের দিক থেকে এ বার ফল যে খুব ভালো, তা বলা যায় না। হিসাব বলছে, ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে মাত্র ০.৪৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী। ৬০ শতাংশের বেশি পেয়েছে ৪১.১৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী। ৭৫ শতাংশের বেশি পেয়েছে ১০.৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী। এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছে ১ লক্ষ ১১ হাজার ৬২৭ জন, কলা বিভাগে ৪ লক্ষ ৯৬ হাজার ৪০৫ জন।

সংসদ সভাপতির দাবি, এ বার নজিরবিহীন ভাবে নির্বিঘ্নে মিটেছে পরীক্ষা। মাত্র তিনটি খাতা বাতিল করতে হয়েছে। তার মধ্যে দু’জন পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে ধরা পড়েছিল। একজনের খাতা বাতিল হয়েছে দুর্ব্যবহারের জন্য। তারা পরবর্তী সেমেস্টারের সঙ্গে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবে। সংসদ সভাপতি জানিয়েছেন, প্রায় ৩৮ লক্ষ ওএমআর শিট ডিজিটাইজ় করা হয়েছে। তা সংরক্ষিত হবে ভবিষ্যতের জন্য।