ফের দুর্যোগের মুখে উত্তরবঙ্গ। ঘূর্ণিঝড় মন্থার প্রভাবে টানা বৃষ্টির কারণে বাড়তে শুরু করেছে নদীগুলির জলস্তর।এখনও পর্যন্ত ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ায় ফুঁসছে নদী। প্লাবনের আশঙ্কা করছেন অনেকে। আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা।
ভুটানের জলে শিসামারা নদীর নির্মীয়মাণ বাঁধ ভেঙে ফের শালকুমার ১ ও শালকুমার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত। প্রায় ২০০ শতাধিক মানুষ ওই এলাকার বাড়ি ঘর ছেড়ে স্থানীয় লাল্টুরাম হাইস্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে তাদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শালকুমার ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুভাষ রায় জানিয়েছেন ,জরুরি ভিত্তিতে যেখানে শিসামারা নদীর বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল তা ভেঙে শালকুমারের নতুন পাড়া ও মুন্সিপাড়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় জল ঢুকে গিয়েছে। ২০০ থেকে ২৫০ পরিবারকে আমরা উদ্ধার করে স্থানীয় নতুন পাড়া লাল্টুরাম হাইস্কুলে নিয়ে এসেছি। বাড়ির গবাদি পশু ও অন্যান্য কিছু উদ্ধারের চেষ্টা হচ্ছে। আরও জল বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
শালকুমারে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীদের নামানো হয়েছে। নিচু এলাকা থেকে মানুষদের সরিয়ে যাওয়ার জন্য মাইকিং শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে জেলা পরিষদও। এদিকে, বীরপাড়ার ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়েতে বীরপাড়া গেরগান্ডা ব্রিজের অ্যাপ্রোচ রোডেও ধস নেমেছে। ফলে উত্তর-পূর্ব ভারত ও ভুটান থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার পথে যানচলাচলে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ইতিমধ্যে তিস্তা ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া শুরু হয়েছে। জলপাইগুড়ির পাশাপাশি শৈলশহর দার্জিলিংয়েও চলছে বৃষ্টি। শনিবার ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় মুখ ঢেকেছে পার্বত্য এলাকা। দৃশ্যমানতা নেই বললেই চলে। রবিবারও আবহাওয়ার বিশেষ উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।





