৩১ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (31st Kolkata International Film Fare) সত্যজিৎ রায় স্মারক বক্তৃতা (Satyajit Ray Memorial Lecture) দিলেন পরিচালক রমেশ সিপ্পি (Ramesh Sippy)। শুক্রবার,উৎসবের দ্বিতীয় দিনে এই বক্তৃতা শুনতে শিশির মঞ্চে ছিল উপছে পড়া ভিড়। রমেশ সিপ্পি পরিচালিত শোলে এবছর ৫০-এ পা দিল। সত্যজিৎ রায় স্মারক বক্তৃতায় সেই কালজয়ী ছবি তৈরির গল্পই শোনালেন পরিচালক । পরবর্তী সময়ে আর কেন শোলে টু নির্মাণ করলেন না, সেই ব্যাখ্যাও দিলেন পরিচালক।
এদিন বক্তৃতার শুরুতেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আরেক পরিচালক গৌতম ঘোষ(Goutam Ghosh) জানালেন, রমেশ সিপ্পির হিন্দি ছবির পরিভাষার আমূল বদল এনেছেন। শোলের আগে যেসব ছবি তৈরি হত সেগুলোর থেকে শোলে ছিল সম্পূর্ণ আলাদা ঘরনার। এই প্রসঙ্গে গৌতম ঘোষ জানান, সত্যজিৎ রায়ের অন্যতম প্রিয় ছবি ছিল শোলে।
পরিচালক গৌতম ঘোষের কথার সূত্র ধরে রমেশ সিপ্পি দর্শকদের সামনে শোলে নির্মাণের গল্প শোনালেন। পরিচালক জানালেন, “২ লাইনের একটা আইডিয়া থেকে সেলিম-জাভেদ দুর্দান্ত চিত্রনাট্য লিখেছিলেন। প্রথম যে আইকনিক দৃশ্যের ন্যারেটিভ জাভেদ সাহেব আমাকে শোনান, সেটাই আমায় আকৃষ্ট করেছিল। গব্বর সিংয়ের মুখে সেই সংলাপ সকলেরই শোনা, ‘কিতনে আদমি থে রে’। ছবিটা দুটি ভার্সানে তৈরি করেছিলেম। একটা অ্যাকশন সিকোয়েন্স আর অন্যটায় বাকিটা। ছবিটা মূলত এক পুলিশ অফিসারের জীবনের গল্প। ছবি তৈরির সময় আমার একটায় দাবি ছিল, আমি যেটা চাই,সেটাই চাই। তার অন্যথা হবে না। চেষ্টা করতাম শ্যুটে যাতে রিশ্যুট না হয়। তার জন্য সারাদিন রিহার্সাল হত। সন্ধ্যের পর শ্যুটিং শুরু হত।” এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, পরবর্তী সময়ে অনেক কাজ করেছি। প্রায় সব ছবিই সফল হয়েছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই শোলের সঙ্গে তুলনা এসেছে।” পাশাপাশি তিনি দ্বিতীয়বার কেন আর শোলে তৈরি করতে চান না সে ব্যাখ্যা দিয়ে পরিচালক হাসতে হাসতে বলেন, ৫০ বছর আগে শোলে নিয়ে দর্শকের মধ্যে যে উন্মাদনা ছিল আজও তা একই রকম রয়ে গিয়েছে। পুরনো ছবিটাই এখনও দর্শক ভোলেননি, নতুন ছবি তাঁরা গ্রহণ করবেন কি করে?”
আগামী প্রজন্মকে পরিচালকের পরামর্শ, “সিনেমা প্রতিনিয়ত আমাদের নতুন শিক্ষা দেয়। প্রযুক্তি প্রতিদিন বদলাচ্ছে। সিনেমা মৃতপ্রায় নয়, ভীষণভাবে জীবিত। আপনারা যখন ছবি বানাবেন তখন নিজের হৃদয়ের কথা শুনবেন, নিজের স্বপ্নকে পর্দায় রূপ দেবেন। কখনই অনুকরণ করবেন না। সবসময় মনে রাখবেন আপনারা আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে সেই সব দর্শকের জন্য ছবি বানাচ্ছেন যাঁরা ওটিটিতে ছবি দেখেন। তাঁরা দামি টিকিট কেটে কোন ধরনের ছবি দেখতে হলে আসবেন তা চিন্তা ভাবনা করে ছবি বানানো উচিত। “





