Header AD

স্বামীর মৃত্যুর ভুয়ো খবরে গর্জে উঠলেন হেমা! ’দায়িত্বজ্ঞানহীন, অসম্মানজনক’ বলে যোগী-রাজনাথকেই বিঁধলেন বিজেপি সাংসদ?

সোশ্যাল মিডিয়ার জ্বালায় বিপর্যস্ত দেওল পরিবার! সোমবার রাত থেকেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর। বলিউডের বেশ কএয়েক ভেরিফায়েড পোর্টাল সেই খবর শেয়ার করে। অনুরাগীদের শোকপ্রকাশের বহরে ভেসে যেতে থাকে নেটমাধ্যম। প্রিয় সুপারস্টার অভিনেতার খোঁজ নিতে হাসপাতাল চত্বরে ভিড় জমান মুম্বই এমনকী শহরতলীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। যদিও সোমবার রাতেই জেষ্ঠপুত্র সানি দেওলের তরফে এহেন জল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছিল, তবে রাত বাড়তেই ধর্মেন্দ্রর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে বলিউডে। প্রথমে সলমন খান, তার এক ঘণ্টার ব্যবধানে ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছন শাহরুখ খানও। মাঝরাতে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে একরাশ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে প্রবেশ করতে দেখা যায় গোবিন্দা এবং অমিষা প্যাটেলকে। এমন আবহে মঙ্গলবার সকালে এক জাতীয়স্তরের সংবাদ সংস্থার তরফে ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবরে সিলমোহর বসানো হয়! এরপরই প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শোকজ্ঞাপন করেন। তাতেই যেন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে প্রবীণ অভিনেতার মৃত্যুর খবর! যদিও এক্স হ্যান্ডেলে যোগী কিংবা রাজনাথ, কারও টুইটেরই অস্তিত্ব নেই বর্তমানে, তবে স্বামীর মৃত্যুর ভুয়ো খবর এবং ‘শোকবার্তার পাহাড়’ দেখে ক্ষুব্ধ হেমা মালিনী। বিজেপির প্রবীণ সাংসদ-নায়িকার মন্তব্য, ‘অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এগুলো…।’

এই মুহূর্তে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন প্রবীণ অভিনেতা। কানাঘুষো খবর, এখন ভেন্টিলেশনে রয়েছেন শোলের  ‘বীরু ‘।মঙ্গলবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ হেমা-এষা ব্রিচ ক্যান্ডি থেকে বেরতেই দুই ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছন সানি দেওল। এদিকে ধর্মেন্দ্রর গুরুতর অসুস্থতা এবং মৃত্যুর ভুয়ো খবর পেয়ে দিল্লি থেকে মুম্বইতে পৌঁছেছেন সানি-ববির তুতো ভাই অভয় দেওল। অভিনেতা আপাতত দাদা ববি দেওলের বাসভবনে রয়েছেন। বলিউড মাধ্যম সূত্রে খবর, মার্কিন মুলুক থেকে মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ধর্মেন্দ্রর আরেক কন্যা। ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর ভুয়ো খবরে গর্জে উঠলেন হেমা মালিনী। এই মুহূর্তে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন প্রবীণ অভিনেতা। সূত্রের খবর, হাসপাতাল চত্বরে সোমবার রাত থেকে যেভাবে ভিড় উপচে পড়েছে, তাতে মঙ্গলবার জনসুনামি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাড়ানো ব্যতীত আর কোনও উপায় ছিল না প্রশাসনের। উপরন্তু দিল্লির বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ এইমুহূর্তে একাধিক জায়গায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এমতাবস্থায় ভিড় নিয়ন্ত্রনের জন্য ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে বিশাল পুলিশ বাহিনি মোতায়েন করা হল প্রশাসনের তরফে। জানা গিয়েছে, একরাশ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে হাসপাতালের বাইরে ভক্তরা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন ভোররাত থেকে। ফলত রাস্তার যান চলাচলও বিঘ্নিত হচ্ছে।

এমতাবস্থায় দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে পড়ে অনুরাগীমহল। এরপরই ধর্মেন্দ্রকে নিয়ে ভুয়ো খবরে প্রথমে গর্জে ওঠেন মেয়ে এষা দেওল। বিরক্ত এষা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “অতিরঞ্জিত করে মিথ্যে খবর ছড়ানো হচ্ছে। আমার বাবার শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং উনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। এই মুহূর্তে সকলের কাছে অনুরোধ, আমাদের পরিবারকে একটু একান্তে থাকতে দিন।”এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষুব্ধ হেমা লেখেন, “যা ঘটছে তা ক্ষমার অযোগ্য! দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম কীভাবে একজন ব্যক্তিকে নিয়ে মিথ্যে খবর ছড়াতে পারে? ধরমজি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন। এটা অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। দয়া করে এই কঠিন সময়ে পরিবারের প্রতি যথাযথ সম্মান বজায় রাখুন।” তাঁর এহেন পোস্টের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় কৌতূহল, দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বলতে কি তাহলে নিজের দলকেই বিঁধলেন বিজেপির সাংসদ নায়িকার? তবে কি হেমার নিশানায় যোগী-রাজনাথ? উল্লেখ্য, ২০০৪ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিজেপি সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ধর্মেন্দ্র। আর তাঁকে নিয়েই ভুয়ো খবর গেরুয়া শিবিরের অন্দরে! যার জেরে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগড়ে দিলেন ‘ড্রিম গার্ল’।