নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা বারবার দাবি করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ই (Partha Chatterjee) গোটা ঘটনার মূলচক্রী। দল বহিষ্কার করলেও রাজনীতিতে ফেরার ষোলো আনা ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। দীর্ঘ তিন বছর তিন মাসের বন্দিজীবন কাটিয়ে মঙ্গলবার জেলমুক্তি পেয়ে ঘরে ফিরেছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার কথা ভাবছেন না তৃণমূলের(TMC) প্রাক্তন মহাসচিব। বরং বেহালার মানুষের কাছে বিচার চেয়ে লিখলেন খোলা চিঠি। তবে কি তিনি ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে মরিয়া?

তৃণমূলের সঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্ক দলের জন্মলগ্ন থেকে। বেহালা পশ্চিমের পাঁচবারের বিধায়ক তিনি। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তারির পর পার্থকে দল থেকে সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল। এমনকি দলের সব পদ থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিনবছর পর জেল থেকে ফিরেই হারানো স্থান ফিরে পেতে কার্যত মরিয়া হয়ে উঠেছেন পার্থ । বুঝিয়ে দিতে চাইছেন রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেবেন না তিনি। মঙ্গলবারই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠিয়েছিলেন তিনি। ওই চিঠির প্রতিলিপি গিয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর কাছেও। বুধবার সকালে বেহালা (পশ্চিম) বিধানসভা কেন্দ্রের জনগণের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেখানে তিনি লেখেন “বেহালা পশ্চিমের মানুষ বরাবর আমাকে ভরসা করেছেন। ওদের মনে এখন হাজারও প্রশ্ন। সে প্রশ্নের উত্তর আমাকে দিতে হবে। প্রয়োজনে অটো নিয়ে বেহালাবাসীদের বাড়িতে পৌঁছব। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেব। আমার সততার ছবিকে যারা মসীলিপ্ত করার চেষ্টা করল— তাদের ছেড়ে দেওয়া সামজিক অপরাধ।“ ‘দুযারে বিধায়ক’ শীর্ষক এই চিঠির মাধ্যমে বেহালাবাসীর কাছে পৌঁছে যেতে চান পার্থ। পাশাপাশি মঙ্গলবার বাড়ি ফিরে বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে নির্দল বিধায়ক হিসাবে যোগদান করে বক্তৃতা দেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি যে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে মরিয়া, তাও স্পষ্ট।
বলাই বাহুল্য, জেল থেকে বাড়ি ফিরে আবার রাজনীতির চেনা ময়দানে সক্রিয় হয়ে উঠতে চাইছেন তিনি। পরের বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তৃণমূল তাঁকে সাসপেন্ড করায় পুরনো দলের টিকিটে ভোটে লড়ার আশা প্রায় নেই বললেই চলে। তা সত্ত্বেও নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ‘মেরামতে’ উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। এখন প্রশ্ন , তৃণমূল কংগ্রেস কি তাহলে তাঁকে আবার দলে ফেরাবে? পুরনো সম্মান দেবে? সাসপেনশন তুলে নেবে? প্রার্থী করবে? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।





