Header AD

দিল্লি বিস্ফোরণ ‘হোয়াইট কলার টেরর ইকোসিস্টেম’! ফের ধৃত এক চিকিৎসক, দেশজুড়ে তল্লাশি অভিযান

যত সময় যাচ্ছে, দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে নতুন নতুন তথ্য তদন্তকারীদের হাতে আসছে। আর ততই সামনে আসছে ভয়ঙ্কর ছবি। বুধবার সকালে জম্মু ও কাশ্মীরের করণ সিং নগর এলাকা থেকে এক  চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, তার নাম তাজমুল আহমেদ মালিক। শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসাবে কর্মরত। দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে একাধিক চিকিৎসকের জড়িত থাকার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই চিকিৎসককে। তাদের জেরা করেই তাজমুলের নাম জেনেছেন তদন্তকারীরা। দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত মুজাম্মিলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্ময়ের ঘোর কাটছে না তদন্তকারী অফিসারদের। জানা যাচ্ছে, আগামী বছর সাধারণতন্ত্র দিবসেই বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। লালকেল্লায় রেইকিও সেরে ফেলেছিল তারা। এছাড়া এবছরের দিওয়ালিতেও নাকি জনবহুল স্থানে বিস্ফোরণ ঘটানোর মতলব ছিল। কিন্তু তা কার্যকর করা যায়নি। শোনা যাচ্ছে, তুরস্কে বসে এই অভিযানের ছক কষা হয়েছে। যত তদন্ত এগচ্ছে, তত স্পষ্ট হচ্ছে তুরস্ক-বাংলাদেশ যোগ বলে সূত্রের খবর।

দিল্লি বিস্ফোরণের পরেই দেশজুড়ে লাল সতর্কতা জারি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এখনও পর্যন্ত ৬ জনের দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গাতেও তল্লাশি চলছে সেনার তরফে। মূলত ফরিদাবাদের আল ফালা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক রয়েছে এই নাশকতার নেপথ্যে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ একে বলছে ‘হোয়াইট কলার টেরর ইকোসিস্টেম’। প্রশ্ন উঠছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নাকের ডগায় এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল কী ভাবে? অনেকেই এই ঘটনার দায় চাপাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপর। বিরোধীরা সরাসরি তাঁর পদত্যাগ দাবি করছেন।

অন্যদিকে দিল্লি বিস্ফোরণের পরেই তদন্তকারীদের নজরে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হুন্ডাই আই ২০ গাড়ির গতিবিধি! তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ফরিদাবাদের আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাসেই রাখা ছিল অভিশপ্ত গাড়িটি। ওই গাড়ির পাশেই রাখা  ছিল এই কাণ্ডে গ্রেপ্তার চিকিৎসক মুজ়াম্মিল আহমেদের গাড়িও। কেন দুটি গাড়ি পাশাপাশি রাখা ছিল, কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যেই ঘাতক গাড়িটিতে বিস্ফোরক বোঝাই করা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে জানা যাচ্ছে,  ঘটনার দিন সকালে হরিয়ানার ফরিদাবাদের এশিয়ান হাসপাতালের সামনে দেখা গিয়েছিল গাড়িটিকে।  দুপুরে টোল বুথ পেরিয়ে দিল্লিতে ঢোকে গাড়িটি। চালকের আসনে ছিলেন দিল্লি বিস্ফোরণের অন্যতম মাথা উমর নবি, বলেই দাবি পুলিশের। এছাড়া দিল্লির অন্যান্য জনবহুল এলাকাতেও দেখা গিয়েছে গাড়িটিকে। তবে কি জনবহুল এলাকাতই বিস্ফোরণের ছক ছিল? সেটাই জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

এছাড়াও বিস্ফোরণ কাণ্ডে উঠে আসছে কাশ্মীরের ইরফান নামে এক মৌলবীর নাম। তদন্তকারী অফিসাররা মনে করছেন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া  এই  জঙ্গি নেটওয়ার্কের মাথা ছিল ইরফান। শ্রীনগরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্যারামেডিক্যাল স্টাফ ছিল একসময়। তখন থেকেই সে সন্ত্রাসে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করে। জইশের ভিডিও দেখিয়ে ভিডিও কল করে আফগান হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগও করাত ইরফান। তাদের ‘স্লিপার সেল’ খোলার ‘মন্ত্র’ দিত। লালকেল্লা বিস্ফোরণ কাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া দুই চিকিৎসক মুজাম্মিল ও উমরও ছিল তারই ছাত্র। তদন্তকারীদের মতে, শিক্ষিত তরুণদের মধ্যেই সন্ত্রাসের বীজ পুঁতে দেওয়া ছিল ইরফানের প্রধান উদ্দেশ্য। ধৃত মুজাম্মিলকে জেরা করে আরও তথ্য জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। জানা যাচ্ছে, দাতব্য কাজের আড়ালেই সন্ত্রাসের তহবিল গোছানো চলছিল। সম্ভাব্য হামলাকারীদের মৌলবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা, আইইডি তৈরির উপকরণ সংগ্রহ করা হচ্ছিল সুপরিকল্পিতভাবে।