কেরলে পথকুকুরের হামলায় মৃত্যু হল ১০টি হরিণের। ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের ত্রিশূরে নবনির্মিত পুথুর চিড়িয়াখানায়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। মঙ্গলবার খবর পাওয়া মাত্র বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অরুণ জাকারিয়ার নেতৃত্বে একটি দল পৌঁছয় চিড়িয়াখানায়। সমগ্র এলাকা পরিদর্শনের পরে তদন্ত শুরু করেছেন তাঁরা। তদন্তকারী দলের এক কর্তা জানান, মৃত হরিণগুলির দেহ ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে। রিপোর্ট হাতে পাবার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে চিড়িয়াখানার ডিরেক্টর নাগরাজ কোনও মন্তব্য করেননি।
সম্প্রতি দেশজুড়ে পথকুকুর নিয়ে সৃষ্টি হয় বিতর্ক। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, স্কুল, রেলস্টেশন, হাসপাতাল চত্বর থেকে পথকুকুরদের সরাতে হবে। এছাড়াও শীর্ষ আদালত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং রাজ্যগুলিকেও এমনই নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ও বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বীজকরণের জন্য পথকুকুরদের যে সব এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেখানে আর তাদের ফেরানো হবে না। সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রেই থাকবে পথকুকুররা। এর মাঝেই কেরলের পুথুর চি়ড়িয়াখানায় পথকুকুরের আক্রমণে হরিণের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যের।
ভারতের প্রথম ‘ডিজ়াইনার চিড়িয়াখানা’ হিসাবেও খ্যাতি ছড়িয়েছে পুথুরের। পুথুরে সম্প্রতি দর্শকদের জন্য অগ্রিম রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থাও শুরু হয়েছে। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ২৮ অক্টোবর পুথুর চিড়িয়াখানা উদ্বোধন করেন। এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম এই চিড়িয়াখানা নির্মিত হয়েছে ত্রিশূরের ৩৩৬ একর জমি জুড়ে। শুধুমাত্র স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে চিড়িয়াখানায়। সাধারণমানুষের জন্য কবে খোলা হবে চিড়িয়াখানার দরজা, সেই সম্পর্কে এখনও কিছু ঘোষণা করা হয়নি। একমাসও পেরোয়নি উদ্বোধনের! এর মাঝেই দুর্ঘটনা ঘটে গেল চিড়িয়াখানায়।





