Header AD

অস্তিত্বহীন ভোটার তালিকার আবার সংশোধন কী! বিজেপি ও কমিশনকে একহাত নিয়ে প্রশ্ন কল্যাণের

২৮ অক্টোবর থেকে বাংলায় শুরু হয়েছে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা SIR এর কাজ। আর শুরুর দিন থেকেই বিতর্ক। SIR আতঙ্কে একের পর এক মানুষ আত্মঘাতী হচ্ছেন। এত তাড়াহুড়ো করে SIR করা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তাবড় নেতারা। বুধবার এই আবহেই কেন্দ্রীয় সরকারকে এক হাত নিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের এই কাজকে অসাংবিধানিক বলে কল্যাণের প্রশ্ন, ‘ যে ভোটার তালিকার কোনও অস্তিত্বই নেই সেই তালিকা ধরে কী ভাবে SIR হচ্ছে?’

কেন এমন বলছেন কল্যাণ? ২০০৯ সালে ভোটার তালিকা ডিলিমিটেশন হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ভোটার তালিকা থেকে অনেক নাম বাদ গিয়েছে। কিন্তু SIR হচ্ছে ২০০২ সালের তালিকা ধরে। “আইন বলছে, ডিলিমিটেশন হওয়ার পর আগের কোনও ভোটার তালিকা গ্রাহ্য করা হবে না। যদি তাই হয়, তাহলে ২০০২ সালের ভোটার তালিকাও গ্রাহ্য হবে না। তাহলে কীভাবে সেই তালিকা ধরে SIR করা হচ্ছে,” প্রশ্ন তুলেছেন  তৃণমূলের সাংসদ আইনজীবী। তারপরই নির্বাচন কমিশনকে তাঁর কটাক্ষ, “ডিলিমিটেশন না হলে ২০০২ সালের তালিকা ধরে করতে পারত। একটা বাতিল হয়ে যাওয়া ভোটার তালিকার সংশোধন করার কোনও মানেই হয় না।“  

শেষ SIR এর থেকে বিধানসভা এলাকারও যে পরিবর্তন হয়েছে তাও এদিন মনে করিয়ে দেন কল্যাণ। তাঁর কথায়, “চৌরঙ্গী হয়ে গিয়েছে ভবানীপুর, রাসবিহারী, টালিগঞ্জ এলাকারও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। অথচ এখন যে তালিকা ধরে SIR করা হচ্ছে সেটা ডিলিমিটেশনের আগে। এটা নিয়ে আমরা আইনগত ভাবে লড়াই করব।“ এনুমারেশন ফর্ম নিয়েও কমিশনকে তোপ দেগে কল্যাণ বলেন, “আজ যে এনুমারেশন ফর্ম দিচ্ছে সেটা না ভরলে আমার ভোটার লিস্টে নাম থাকবে না। অথচ আমি ১৯৭৮ সাল থেকে ভোট দিই। এবার ফর্ম না ভরলে আমাকে আবার নতুন করে ভোটার হতে হবে। একবার লিস্টে নাম থাকলে ভোট দেওয়াটা আমার অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নেওয়াতটাই তো অসংবিধানিক। আমাকে এনুমারেশন ফর্ম ভর্তি করতে হবে কেন?”

SIR এ বিজেপির BLA দিতে না পারা নিয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, “আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম তখনও আমাদের বুথে লোক থাকত। আর ওদের দেখুন কোনও লোক নেই। মোদির মুখ দেখিয়ে আর CBI, নির্বাচন কমিশন দেখিয়ে কতদিন চলবে? গোটা প্রক্রিয়াটা মনিটর করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমার এলাকায় কোথায় কত প্রোগ্রেস হয়েছে তার সমস্ত বিস্তারিত তথ্য আমার কাছে আছে। যখন আমরা কাজগুলো করছি, তখন গাইডলাইন বদল করা হল কেন? সেটা কি শুধু ভারতীয় জনতা পার্টিকে  সুবিধে দিতে? নাকি শুভেন্দু অধিকারীকে সুবিধে দিতে?  নির্বাচন কমিশনের কেন আজ এই দুরবস্থা! আসলে কমিশন পুরপুরি গেরুয়া শিবিরের এজেন্ট হয়ে কাজ করছে।” এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে রাজ্যবাসীকে তাঁর আশ্বাস, আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন। প্রতিটি ভোটারকে এনরোল করার দায়িত্ব আমাদের। যত চক্রান্ত করুক একজন জেনুইন ভোটারের নাম আমরা বাদ যেতে দেব না।“

SIR নিয়ে বলার পাশাপাশি এদিন দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে ফের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,” আমিই প্রথম অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছিলাম। দেশ বাঁচানোর জন্য একজন ফুলটাইম হোম মিনিস্টার চাই আমাদের। শাহের মতো এরকম পার্টটাইম মন্ত্রী দিয়ে দেশরক্ষার কাজ হয় না। উনি তো নানা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। দুমাস অন্তর ভোটের ময়দানে ঘুরে বেড়ান। ওঁর সময় কোথায় দেশের সুরক্ষা দেখার?”