বিহার ভোটে NDA আর মহাগঠবন্ধনের দিকে যতই চোখ থাকুক, আলাদা করে নজর ছিল রামবিলাস পাসওয়ানের পুত্র চিরাগ পাসওয়ানের দল কেমন করে তার ওপরেও। বাবার যোগ্য উত্তরসূরি আদৌ তিনি হতে পারবেন কি না তা নিয়ে সন্দিহান ছিল রাজনৈতিক মহল। কিন্তু যাবতীয় সমালোচনা, প্রশ্নবাণকে মাঠের বাইরে ফেলে দিলেন তরুণ তুর্কি। বাবার নাম নিয়ে ভোটের ময়দানে ২৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নেমে ২০টিতেই এগিয়ে চিরাগের লোক জনশক্তি পার্টি (এলজেপি)।
রামবিলাস পাসওয়ানের যোগ্য উত্তরসূরি হয়ে ওঠার লড়াইটা মোটেই সহজ ছিল না চিরাগের। গতবারের (২০২০) বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে লড়েছিল তাঁর দল। ১৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে মাত্র একটা আসনে জয় পায় তারা। যদিও একাধিক আসনে ভোট কেটে জেডিইউর যাত্রা ভঙ্গ করেছিল চিরাগের দল। সেখান থেকেই প্রশ্ন ওঠে, রামবিলাসের মতো হেভিওয়েট নেতা হওয়ার যোগ্যতা কি আদৌ আছে চিরাগের? এরই মধ্যে বছর পাঁচেক আগে লোক জনশক্তি পার্টিতে ভাঙন ধরান রামবিলাসেরই ভাই পশুপতি কুমার পারস। আরও সংকটে পড়ে চিরাগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
তবে কোনও অবস্থাতেই হাল ছাড়েননি চিরাগ। নিজেকে ‘যুব বিহারী’ বলতেই গর্ববোধ করেন। রামবিলাসের শক্ত ঘাঁটি দলিত ভোটব্যাঙ্কের ওপর ভরসা রেখে আবার ঝাঁপিয়ে পড়েন বিহারের লোকসভা ভোট ময়দানে। তখনই একটা আভাস পাওয়া গিয়েছিল। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ম্যাজিক দেখান চিরাগ। বিহারের মাত্র পাঁচটি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু প্রত্যেকটায় জিতে চিরাগ প্রমাণ করে দেন, তাঁর উপরে ভরসা করে ভুল করেনি এনডিএ। মোদি সরকারের মন্ত্রীও হন তিনি।
লোকসভা ভোটের সাফল্যের কথা মাথায় রেখেই বিহার বিধানসভার ভোট ময়দানে নামেন চিরাগ। আসন বণ্টনের সময় থেকেই সর্বশক্তি দিয়ে লড়েছিলেন। জেডিইউ-বিজেপি ‘ইগোর লড়াই’য়ের মধ্যেই নিজের দলের জন্য ২৯টি আসন ছিনিয়ে আনেন। শেষ পর্যন্ত চিরাগের ক্যারিশমাতেই ২৯টি আসন বরাদ্দ করে এনডিএ। তারমধ্যে এখনও পর্যন্ত ২২টি আসনে এগিয়ে এলজেপি প্রার্থীরা। আগামী দিনে বিহার রাজনীতির মুখ হয়ে ওঠার পথে অনেকখানি এগিয়ে গেলেন চিরাগ, তা বলাই বাহুল্য।





