বাঁকুড়া জেলা মূলত রুক্ষ পাথর খাদান সমৃদ্ধ অঞ্চল। সেই এলাকায় ভোটের প্রচারে রণ সংকল্প সভায় দাঁড়িয়ে বিপুল কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শনিবার বাঁকুড়ার (Bankua) শালতোড়ায় জনসভা করেন অভিষেক। সেই সভা থেকেই তাঁর ঘোষণা, “আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পাথর খাদানের কাজ শুরু হয়ে যাবে”। সেগুলি চালু হলে কমপক্ষে ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে আশ্বাস দেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি খাদানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক ডিজি মাইনিং-কে ঘুষ দিতে হয় বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)।
এদিনের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁকুড়ার জনগণের উদ্দেশ্যে জানান, এখনও পর্যন্ত প্রায় চার থেকে সাড়ে চার হাজার কর্মী পাথর খাদানের কাজে যুক্ত। সরকারি যে ১৩৩ হেক্টর জমি রয়েছে তাতে ১৮টা খাদান রয়েছে। আইনের ব্যাপার আছে। অনেক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই ১৮ টি খাদান কাজ করা শুরু করলে এখানে প্রায় ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।” পাশাপাশি তিনি জানান, এদিন সকালেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই বিষয়ে তাঁর কথা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে আগামী দুমাসের মধ্যে অর্থাৎ ৩১ মার্চের মধ্যে এই ১৮টি মাইনের কাজ শুরু করতে হবে।
এরপর বিস্ফোরক অভিযোগ করে অভিষেক বলেন, “পাঁচটা খাদান চালু রয়েছে। প্রায় ১২০টি ক্রাশারের কাজ চলছে। ২৫০টির উপরে ক্রাশার রয়েছে। কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। একটি খাদান করতে গেলে অন্তত এক হেক্টর জমির প্রয়োজন হয়। একাধিক সরকারি অনুমতির দরকার হয়। ডাইরেক্টর জেনারেল অফ মাইনিং-এর এনওসি পেতে গেলে মাসের পর মাস লেগে যায়। আইনি প্রক্রিয়া মেনে যদি খাদান চালুও করতে হয়, ৩০-৩২ লক্ষ জমা দিতে হয়। তার পরে অনৈতিক ভাবে ডিজি মাইন-কে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হবে।”
রুক্ষ বাঁকুড়ার জলের সমস্যা নিয়েও এদিন সরব হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। কেন্দ্র সরকারের জল জীবন মিশনের টাকা আটকে রেখেছে বলে তোপ দাগেন তিনি। বলেন, জল জীবন মিশনে পানীয় জলের প্রকল্পে ৫০ শতাংশ টাকা কেন্দ্রের দেওয়ার কথা। কিন্তু কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সেই ২.৫ হাজার কোটি টাকা গায়ের জোরে আটকে রেখেছে। আমাদের সরকারের ২৫০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল । কিন্তু আমাদের সরকার ৪৫৬০ কোটি টাকা দিয়েছে।” এরপরই অভিশেক প্রশ্ন তোলেন “এদের উচিত শিক্ষা দেবেন না?” এরপর বাঁকুড়ায় পানীয় জলের সমস্যা দূর করার জন্য অবিলম্বে ১৫০টি টিউব ওয়েল তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন । বলেন, “আমি জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রীকে অনুরোধ করে এসেছি। যেখানে যেখানে ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা যায় সেটাও অবিলম্বে চালু করতে বলা হয়েছে। আমি এই দুটো বিষয়ে আপনাদের কথা দিয়ে গেলাম। দুমাসের মধ্যে এই কাজের বাস্তবায়ন আপনারা সবাই দেখতে পাবেন।”





