শালতোড়ার সভা থেকে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়াকে ১২-০ করার ডাক দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। “বাঁকুড়ায় এবার বিজেপিকে ছয় মেরে মাঠের বাইরে ফেলতে হবে। ১২ বছর ধরে কেন্দ্রে থাকার পরও বাঁকুড়ায় এই ১২ বছরে কী করেছে বিজেপি? জিজ্ঞেস করুন বিজেপিকে। ওরা রিপোর্ট কার্ড দেখাক। এবার বাঁকুড়ার মাটিতে রণ সংকল্প সভায় দাঁড়িয়ে হুংকার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের।বললেন,” কোনও ভদ্রলোক বিজেপি করে না।”
এদিনের সভা থেকে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে টার্গেট বেঁধে বাঁকুড়ায় ১২-০ করার আহ্বান জানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এদিনের সভা থেকে এস আই আর নিয়ে ফের সরব হব তিনি। শালতোড়ার মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিষেকের প্রশ্ন, ” ৫০, ৬০, ৭০ বছর এই মাটিতে থাকার পরে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে? সুভাষ সরকারের নিজের জন্মের সার্টিফিকেট আছে? সৌমিত্র খাঁয়ের জন্মের সার্টিফিকেট আছে?”

এদিনের সভা থেকে একযোগে বিজেপি – সিপিএম-কে দুষে তৃণমূল সাংসদ বলেন,”৩৪ বছরের জগদ্দল পাথরকে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে যে মুক্তির সূর্যোদয় ঘটিয়েছে, তার নাম তৃণমূল কংগ্রেস। নেত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আপনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকাবেন? আগে যান সিপিএমের থেকে একটু ট্রেনিং নিন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্য ধাতুতে তৈরি। তৃণমূল বশ্যতা স্বীকার করতে জানে না।” এরপরই তিনি দাবি করেন, “একসময় মাওবাদী আন্দোলনে অশান্ত বাঁকুড়াকে শান্ত করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানকার বিধায়ক,সাংসদ সবই বিজেপির। তাঁরা বাঁকুড়ার জন্য কী করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এখানে রাস্তাঘাটা, হাসপাতাল, আইটি পার্ক তৈরি করে দিয়েছে।”
সভা থেকে অভিষেক মনে করিয়ে দেন, “আজকের দিনে দাঁড়িয়ে রাজ্যের ২ লক্ষ কোটি টাকা নরেন্দ্র মোদির সরকার আটকে রেখেছে। আমি মিথ্যা বললে, আমার বিরুদ্ধে মামলা করে জেলে ঢোকাবেন। রাজ্যে ২৯৪টি বিধানসভা রয়েছে। এক একটি বিধানসভার ৬৮০ কোটি টাকা বিজেপি সরকার আটকে রেখেছে। বাঁকুড়া জেলার ৭ হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে এই বিজেপি। এই টাকা ছাড়লে রাতারাতি বাঁকুড়ার জন্য সাত হাজার কোটি টাকা দিতে পারবে রাজ্য সরকার। এরা চায় বাংলার মানুষ ওদের পা ধরুক।”

প্রসঙ্গত, শনিবার শালতোড়ায় সভার শুরুতেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে প্রাক্তন শালতোড়া ব্লক সভাপতি কালীপদ রায় এবং বাঁকুড়া পুরসভার নির্দলীয় কাউন্সিলর দিলীপ আগরওয়াল তৃণমূলে যোগদান করেন।






