লড়াইয়ের আর এক নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- একথা বাংলার মতো জানে গোটা দেশ। সংরাম তাঁর শিরায়-উপশিরায়। প্রতিপক্ষকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়ার বান্দা তিনি নন। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে বিরোধী নেত্রী থেকে আজ বাংলার সিংহাসনে। সেই কথাই যেন আবার প্রতিপন্ন হল জম্মু-কাশ্মীরের পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (PDP) প্রধান মেহবুবা মুফতি (Mehbooba Mufti)-র বক্তব্যে। আইপ্যাকে ইডি আধিকারিকদের তল্লাশির (I-PAC ED Raid) দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁকে ‘বাঘিনী’ বলে সম্বোধন করলেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানার প্রসঙ্গে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘটনার উল্লেখ করে মেহবুবা বলেন, “বর্তমানে গোটা দেশজুড়ে তল্লাশি চলছে। আগে এটা অবশ্য হয়নি। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর এখানে শুধুই তল্লাশি হতো। তখন বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল চুপ করে ছিল। তিনজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গ্রেপ্তার হয়েছেন। সকলে মুখ বুজে সেসব দেখছিল। সংবাদপত্র খুললেই দিনে কমপক্ষে ২০-২৫টি তল্লাশির খবর দেখা যেত। এখন সেটাই বাংলায় হচ্ছে।” এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে তিনি বলেন, “তবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সাহসী। তিনি বাঘিনী। তিনি লড়াই করবেন। কখনই আত্মসমর্পণ করবেন না।” জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যমেও বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে ইডি হানার পরে মমতার করা সাংবাদিক সম্মেলনের ভিডিও পোস্ট করে মুফতি মহম্মদ সইদ কন্যা লিখেছেন, “ নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির উপর ভয়াবহ অপব্যবহার বিজেপির হতাশার প্রতিফলন। যখন ইভিএম কারচুপি এবং SIR-এর অধীনে ভোটার তালিকা কারচুপি যথেষ্ট নয়, তখন অভিযান তাদের অস্ত্র হয়ে ওঠে। এই ভয় দেখানো কেবল এই সত্যকে নিশ্চিত করে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌশল এবং জনগণের সমর্থন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’কে অস্থির করে তুলেছে। বাঙালিরা কি গণতন্ত্রের এই নির্লজ্জ নির্যাতন মেনে নেবে?”

উল্লেখ্য, তৃণমূলের বরাবরের অভিযোগ, ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বাংলাকে। সে কারণেই স্রেফ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নেতা-মন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেই অভিযোগ। আর মাত্র কয়েকমাস পরই বাংলায় ভোট। আর তার আগে ভোটমুখী বাংলায় ‘অ্য়াকশনে’ ইডি। তৃণমূলের দাবি, দলের ভোট কৌশল ‘চুরি’ করতে ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্য়াককে টার্গেট করা হয়েছে। তাই আইপ্য়াকের সল্টলেকের অফিস, কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি করা হয়। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তল্লাশির নামে ‘চুরি’ করা হয় বলেই অভিযোগ রাজ্যের শাসক দলের। সে খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে যান মমতা। তাঁর দলের কাগজপত্র থাকা সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। যা নিয়ে চলছে জোর তরজা। যদিও ইডি তথ্য ‘চুরি’র অভিযোগ নস্যাৎ করেছে। তাদের দাবি, কয়লা কাণ্ডের তদন্তে রুটিন তল্লাশি। আর কোনও কাগজপত্র নেওয়া হয়নি বলেও দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। এই নিয়ে দুপক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। ইডি হানার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দৃঢ় পদক্ষেপের প্রশংসা করেই বিজেপি সরকারকে নিশানা করলেন মেহবুবা। এর আগে অখিলেশ যাদবও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ান।





