দেশবাসীর তথা সমগ্র জাতির শিক্ষা সংস্কৃতি ও অধ্যাত্মচেতনা জাগরণে স্বামী বিবেকানন্দের অবদান অসীম। তিনিই আপামর ভারতবাসীকে জ্ঞানের আলো দেখিয়েছেন । তিনিই বলেছিলেন গীতাপাঠের চেয়ে ফুটবল খেলা ভালো। যার অন্তর্নিহিত অর্থ কর্মই অধিক কাঙ্খিত, ধর্মের আলোচনার থেকে। এহেন যুগপুরুষের ১৬৪ তম জন্মদিন সোমবার। এই সময় দাঁড়িয়ে স্বামীজির বার্তা, আদর্শই পাথেয় হোক সকলের। এই অস্থির সময়ে আগামীকে আলো দেখাক তাঁর বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতির বার্তা। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজ্যে একাধিক সমাজকল্যাণমূলক কাজ করছে রাজ্য সরকার। যুব দিবসে সেই কর্মসূচি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরে স্বামীজিকে শ্রদ্ধা জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। স্বামীজিকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শাসকদলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন তাঁরা। বিবেকানন্দের বাণী সম্বলিত একটি ভিডিও পোস্ট করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তবে বিবেকানন্দের জন্মদিন উদযাপনের মতো অনুষ্ঠান আজও রাজনীতি এড়াতে পারল না। সকালে বিবেকানন্দের বাড়ি সিমলা স্ট্রিটে তৃণমূল ও বিজেপি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ঘিরে চাপানউতোর তৈরি হয়।
বিবেকানন্দের জন্ম জয়ন্তীতে সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এক্স হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্ট লেখেন। বিবেকানন্দের জীবন আদর্শের কথা উল্লেখ করে স্বামীজিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘ভারতের স্বাদেশিক আধ্যাত্মিক চেতনার প্রতীক স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তীতে তাঁকে জানাই আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম। স্বামী বিবেকানন্দ আমাদের স্বদেশভক্তি ও সকল সমাজকর্মের অনুপ্রেরণা। তাঁর দেশপ্রেমের আদর্শ, দরিদ্রনারায়ণের সেবার বার্তা, ঐক্য, শান্তি ও সম্প্রীতির বাণী আমাকে সবসময় উদ্দীপিত করেছে। সর্ব-ধর্ম-সমন্বয়ের যে পথ স্বামীজি আমাদের দেখিয়েছিলেন, তাই আমাদের সবার পাথেয়। স্বামীজির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে বাংলার সকল মানুষ একে অপরকে শ্রদ্ধা করুক ও ভালোবাসুক – এটাই আমাদের একমাত্র প্রার্থনা।’ অর্থাৎ তিনি জোর দিয়েছেন একতা ও সর্বধর্ম সমন্বয়ের দিকে।
সেই সঙ্গে তিনি তুলে ধরেন বাংলার বর্তমান প্রশাসন তাঁকে স্মরণ করে স্বামীজির স্মৃতি বিজড়িত স্থানের সংস্কার করেছে। তিনি জানান, ‘স্বামী বিবেকানন্দকে শ্রদ্ধা জানাতে আমাদের সরকার অনেক কিছু করেছে। স্বামী বিবেকানন্দকে শ্রদ্ধা জানাতে আমাদের সরকার অনেক কিছু করেছে। বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) পৈতৃক ভিটে এবং ভগিনী নিবেদিতার (Sister Nivedita) স্মৃতিজড়িত কলকাতার বাগবাজার এবং দার্জিলিং-এর দুই বাড়ি অধিগ্রহণ করে যথাক্রমে রামকৃষ্ণ মিশন ও রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, এবং সেগুলো এখন সংরক্ষিত হয়ে বহু মানুষের গন্তব্য হয়েছে। বাগবাজারে মায়ের বাড়ির সংস্কারও করা হয়েছে। কামারপুকুরে শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মভূমি-কেন্দ্রে আমরা রামকৃষ্ণ মিশন ও সংলগ্ন এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য অনেক কাজ করেছি, আরো করা হচ্ছে।’
স্বামীজির অনুপ্রেরণায় রাজ্য সরকার যে উদ্যোগগুলি নিয়েছে তার উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) আদর্শ ও দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে নিউটাউনে (New Town) একটি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘বিবেকতীর্থ’ গড়ে তোলা হচ্ছে। এর জন্য জমি আমরা দিয়েছি। রামকৃষ্ণ মিশন এটা তৈরি করছে। নির্মাণের খরচও অনেকাংশে আমরা বহন করছি। স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে নিউটাউনে একটি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘বিবেকতীর্থ’ গড়ে তোলা হচ্ছে। এর জন্য জমি আমরা দিয়েছি। রামকৃষ্ণ মিশন এটা তৈরি করছে। নির্মাণের খরচও অনেকাংশে আমরা বহন করছি। নতুন প্রজন্মের কাছে স্বামীজির আদর্শ পৌঁছে দিতে প্রতি বছর তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা পালন করছি ‘বিবেক চেতনা উৎসব’। স্বামী বিবেকানন্দর নামে আমরা যুব সম্প্রদায়ের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প (যেমন – স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিন্স স্কলারশিপ, ইত্যাদি) করেছি। সল্টলেক স্টেডিয়ামের নাম পালটে আমরা ‘বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন’ করেছি।’

একই বার্তা দিয়েছেন শাসকদলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও( Abhishek Banerjee)। স্বামীজিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনিও এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘তাঁর ভাবনা আজও ভারতের বিবেককে আলোকিত করে। স্বামীজি আমাদের শিখিয়েছিলেন জীবসেবাই শিবসেবা। জনতার মাঝে স্বর্গপ্রাপ্তি ঘটে। আজকের এই সময়ে যখন ভেদাভেদের রাজনীতি গ্রাস করেছে, মানুষকে যখন তাঁর ধর্মীয় পরিচয় দিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তখন স্বামীজির বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব চেতনা আমাদের পাথেয় হোক।’

এদিকে সোমবার সকালেই সিমলা স্ট্রিটে স্বামীজির বাড়ি গিয়ে তাঁর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান তৃণমূল প্রতিনিধিরা।





