SIR শুনানিতে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। সেই হিয়ারিং পদ্ধতি নিয়ে ফের ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, “রাজ্যে প্রায় ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম বেআইনি ও অনৈতিকভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এবার লজিকাল ডিসস্ক্রিপেন্সির নামে আরও ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।” এমনকি বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিতে নির্বাচন কমিশন ‘ব্ল্যাকম্যাজিক’ করছে বলেও অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তাঁর পরামর্শ দলের রক্ষক হিসাবে নয়, গণতন্ত্রের রক্ষক হিসাবে কাজ করুক কমিশন।”
এসআইআরের খসড়া তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। শুনানির জন্য সারা রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন এমন দৃশ্য প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে। SIR-এর আতঙ্কে নাগরিকদের মৃত্যুর অভিযোগও উঠেছে। এই সব কিছু নিয়েই নির্বাচন কমিশনকে তীব্র দোষারোপ করে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ব্ল্যাক ম্যাজিক করে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে ৷ মহারাষ্ট্র, বিহার, হরিয়ানায় একই জিনিস হয়েছিল৷ সেখানে কেউ ধরতে পারেনি৷ পরে চূড়ান্ত তালিকা বেরনোর পর আর কিছু করা যায়নি৷ কারণ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেই নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করে দিয়েছে৷ এখানেও একই প্ল্যান আছে৷’
আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এসআইআর-এর নামে সর্বনাশের খেলা চলছে বাংলা জুড়ে৷ আগেই AI ব্যবহার করে ৫৪ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে ৷ কিন্তু এবার লজিকাল ডিসস্ক্রিপেন্সির নামে করে আরও ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে। লজিকাল ডিসস্ক্রিপেন্সি বলে কিছু ছিলই না SIR-এ। এটা নতুন আমদানি করেছে। এর নাম করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ছক হচ্ছে। SIR আইনে মাইক্রো অবজারভার বলে কিছু নেই। বিবাহিত মহিলাদের পদবী বদল হওয়ায় তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে৷ মিসম্যাচ হয়েছে নির্বাচন কমিশনের ভুলে৷ বলছে ইআরও (ERO) নাকি ৫৪ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে৷ কিন্তু ইআরও-দের সংগঠন চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে তারা এ বিষয়ে কিছু জানে না৷’ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ করেন, যে ৫৪ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে, তাদের মধ্যে অধিকাংশই বৈধ ভোটার৷
প্রসঙ্গত , এ দিন বাঁকুড়ার খাতড়া থানা এলাকায় একটি গাড়ি থেকে একসঙ্গে প্রচুর এসআইআর-এর ফর্ম ৭ উদ্ধার হয়েছে৷ এই ঘটনায় দু জনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ৷ এই প্রসঙ্গ টেনে গাড়িতে থাকা একগুচ্ছ কাগজপত্রের ছবিও সংবাদ মাধ্যমের তুলে ধরেন এই সাংবাদিক বৈঠক থেকে। সেই ঘটনার উদাহরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, “গাড়িতে করে গুচ্ছ গুচ্ছ এন্যুমারেশন ফর্ম নিয়ে গিয়ে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে৷ বাঁকুড়ার খাতড়া থানা এলাকায় একটা গাড়ির ভিতরে ৯-১০ হাজার ফর্ম নিয়ে গিয়েছে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য৷ সব বিজেপি-র এজেন্সি করছে৷ মালদহে তো বিজেপির নেতারা নিজেরা গিয়েছিলেন৷ বস্তা ভর্তি ভর্তি ফাইল৷ এটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার চুরি নয়? তথ্য চুরি করছে, অধিকার চুরি করছে৷ মানুষকে বাঁচতে দিচ্ছে না৷ জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে দিচ্ছে৷ বিজেপি মানুষকে হয়রানি করার জন্য whatsapp-এ শুনানি শেষ করার জন্য ১৪ তারিখ নির্ধারিত করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে”
এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে থানার আইসি-দেরও সতর্ক করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, এ ভাবে এসআইআর-এর গুচ্ছ গুচ্ছ ফর্ম অথবা নথি পাচারের চেষ্টার সময় ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর দায়ের করতে হবে৷ সাধারণ মানুষ এবং তৃণমূলকর্মীদেরও সতর্ক থাকার আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারাও নজরে রাখবেন যে, কখনও বস্তার মধ্যে করে কোনও নাশকতার জিনিস বহন করে নিয়ে যাচ্ছে না তো? কারণ রাজ্যকে সুরক্ষিত রাখতে হবে নিজেদেরই”।





